নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এক ভয়াবহ ও বিস্ময়কর মহাজাগতিক দৃশ্য। পৃথিবী থেকে মাত্র ৫০ আলোকবর্ষ দূরে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি পাথুরে গ্রহ, যা তার নক্ষত্রের তীব্র তাপে সম্পূর্ণভাবে দগ্ধ হয়ে গেছে। এলএইচএস ৩৮৪৪বি নামের এই গ্রহটি এখন কার্যত এক মৃত জগৎ। সেখানে নেই কোনো পানি, নেই বায়ু, এমনকি নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণে এর বায়ুমণ্ডলও পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। পড়ে রয়েছে কেবল রুক্ষ, শুষ্ক ও পাথুরে ভূমি।

এই আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমাদের সৌরজগতের বুধ গ্রহ নিয়েও। সূর্যের সবচেয়ে কাছের এই গ্রহটিও ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে কি না—এ প্রশ্ন এখন গবেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। যদিও এর নিশ্চিত কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও নতুন এই গ্রহটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও আগ্রহ বেড়েছে।
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির পরিচালক লরা ক্রেডবার্গের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এই গ্রহ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালান। তাদের গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। আকারে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বড় এই গ্রহটি একটি ছোট লাল বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। নক্ষত্রটি সূর্যের তুলনায় ছোট ও কম ভরের হলেও, গ্রহটি এতটাই কাছাকাছি অবস্থান করছে যে এটি মাত্র ১১ ঘণ্টায় একবার কক্ষপথ সম্পন্ন করে।
এই অতিরিক্ত নৈকট্যের কারণেই গ্রহটির বায়ুমণ্ডল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রহটি নিজের অক্ষের ওপর এমনভাবে ঘোরে যে এর এক পাশ সর্বদা নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে, আর অন্য পাশ থাকে চির অন্ধকারে। আলোকিত অংশের তাপমাত্রা প্রায় ১০০০ কেলভিন (প্রায় ১৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করছেন, গ্রহটির পৃষ্ঠভাগ সম্ভবত ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে গঠিত, যা ম্যাগনেসিয়াম ও লোহা সমৃদ্ধ লাভা দ্রুত জমে তৈরি হয়েছে। একসময় ধারণা করা হলেও যে এখানে টেকটোনিক কার্যকলাপ থাকতে পারে, নতুন গবেষণা সেই সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
হার্ভার্ড ও স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক সেবাস্তিয়ান জিয়েবা জানিয়েছেন, এই গ্রহে কোনো টেকটোনিক প্লেটের অস্তিত্ব নেই এবং পানি থাকার সম্ভাবনাও প্রায় শূন্য। সাধারণত সক্রিয় গ্রহে আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে বিভিন্ন গ্যাস নির্গত হয়, কিন্তু এই গ্রহে তেমন কোনো গ্যাসের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি সম্পূর্ণ বায়ুমণ্ডলহীন, নিষ্ক্রিয় ও মৃত গ্রহ।
এই রহস্যের আরও নিশ্চিত তথ্য জানতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



