পুরো রমজান মাসজুড়ে নগরবাসীকে তরমুজ কিনতে হয়েছে চড়া দামে। তবে ঈদের ছুটির পর বাজারে তরমুজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, ঈদে গ্রামে যাওয়া অনেক মানুষ এখনো শহরে না ফেরায় চাহিদাও রমজানের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে তরমুজের দামও বেশ কমে গেছে।

তরমুজ

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আড়ত ঘুরে আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সরবরাহ বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন তরমুজ ওজন না করে পিস হিসেবে বিক্রি করছেন বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতা। বর্তমানে সর্বনিম্ন দাম ৫০ টাকায় পিস, আর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

যাত্রাবাড়ীর ফলের আড়তের আড়তদাররা জানান, আড়তে সাধারণত তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হয় এবং ১০০ পিসের কমে কেনা যায় না। এখন আড়তে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের একশ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়। সেই হিসেবে প্রতিটি তরমুজের দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। রমজান মাসে এ দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মাঝারি আকারের তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এ তরমুজগুলোর ওজন ৩ থেকে ৫ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতি পিসের দাম পড়ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

২ দুই থেকে তিন কেজি ওজনের ছোট আকারে তরমুজ প্রতি ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়। ‌ এক্ষেত্রে প্রতি পিসের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এ দামের সঙ্গে আড়তদারি এবং পরিবহন খরচ যুক্ত হয়।

যাত্রাবাড়ীতে পাইকারির সঙ্গে খুচরাও তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজনকে ৫০ টাকা পিস দরে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। মাছ বাজারের কাছে এভাবে তরমুজ বিক্রি করছিলেন হাসান মিয়া। তিনি বলেন, দুটি তরমুজ ১০০ টাকা। তরমুজ কেটে দেবো, ভালো হলে নেবেন, খারাপ হলে আমার। প্রতিটির ওজন ২ থেকে ৩ কেজি।

পাশেই আরেকজন বিক্রি করছিলেন প্রতি পিস ১০০ টাকা ধরে। তিনিও গ্যারান্টি দিয়ে বিক্রি করছেন। বলছেন, কাটার পর পছন্দ হলে নেবেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন ৩ থেকে ৪ কেজি। ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ৭/৮ কেজি ওজনের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। দরদাম করার পর কাটা হচ্ছে, পছন্দ হলেই তবেই ক্রেতা নিচ্ছেন।

যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে তরমুজ কিনতে এসেছেন শাহরিয়ার হুসাইন। তিনি বলেন, রমজান মাসে ছোট একটা তরমুজ ২০০/৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এখন সেই তুলনায় দাম প্রায় অর্ধেক। এখন তরমুজ পরিপক্ব এবং লালও। ৩০০ টাকা দিয়ে একটা কিনলাম, ওজন ৮ কেজির কাছাকাছি।

সিনথিয়া বাণিজ্যালয়ের মো. কামাল হাওলাদার বলেন, এখন প্রচুর পরিমাণে তরমুজ আসছে, দামও আগের তুলনায় অনেক কম। কারণ ঈদে গ্রামে যাওয়া মানুষ এখনো ফেরেনি, ঢাকা বলতে গেলে অনেকটা ফাঁকা। তরমুজ আছে কিন্তু চাহিদা কম। তাই দাম কমে গেছে। ক্রেতা নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, ‘ঈদের পরপরই তরমুজের দাম কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এরপর দাম কমে গেছে। এখন সেই অবস্থায়ই আছে। ঈদের ছুটি থাকায় ওদিকে তরমুজ কাটেনি। কম এসেছে এদিকে। এখন সবাই একযোগে তরমুজ কাটছে, ট্রাক ভরে ভরে তরমুজ আসছে। কমপক্ষে ১০০ গাড়ি প্রতিদিন তরমুজ নিয়ে আসছে।’

এবার তরমুজের ফলনও খুবই ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। কারণ এবার পুরো রমজানটা ধরতে পেরেছেন তারা। রমজান মাসে তরমুজের ভালো একটা দাম ছিল।

বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, অন্য কোনো দুর্যোগ দুর্বিপাক না হলে, আবহাওয়া খারাপ না হলে তরমুজের দাম আপাতত এমনি থাকবে। এখনই পিক সিজন। দামও কমে গেছে।

গত দুই আড়াই মাস আগে থেকে তরমুজ আসা শুরু হয়েছে। আরও কমপক্ষে তিন মাস তরমুজ থাকবে বলেও জানান তিনি।

জামাল উদ্দিন আরও বলেন বলেন, এখন নোয়াখালী, ভোলা, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ বেশি আসছে। বরগুনার তরমুজ আসবে আরও কিছুদিন পর। খেপুপাড়া, কুয়াকাটার তরমুজও আসবে।

সিজনের প্রথম তরমুজ আসে সিলেট থেকে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর আসে নোয়াখালী এবং বরিশালের তরমুজ। এরপর খুলনা, ঠাকুরগাঁ তরমুজ আসবে। সর্বশেষ আসবে নাটোরের তরমুজ।

যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে কয়েকটি দোকানে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। সবাই কেজি দরে বিক্রি করছেন। হ্যান্ড মাইকে প্রচার হচ্ছে, লাল মিষ্টি তরমুজ, ৪০ টাকা কেজি। এখানকার আরেকজন বিক্রেতা ৫০ টাকা কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এছাড়া মাতুয়াইলের খান বাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ভ্যান গাড়িতে করে ৫০ থেকে ১০০ টাকায় ছোট আকারের তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.