মহাকাশে মাঝে মাঝে এমন কিছু বস্তু দেখা যায়, যা আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে আসে। সম্প্রতি এমনই এক বিরল অতিথির কাছ থেকে তোলা নতুন ছবি বিজ্ঞানীদের দারুণভাবে আগ্রহী করে তুলেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সূর্যের দিকে এগোতে গিয়ে একটি ধূমকেতু ধুলা ও গ্যাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ধূমকেতু

Advertisement

এই ছবিটি প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)। তাদের মহাকাশযান ‘জুপিটার আইসি মুনস এক্সপ্লোরার’ বা সংক্ষেপে ‘জুস’ (JUICE) ধূমকেতুটির কাছাকাছি দৃশ্য ধারণ করে। ধূমকেতুটির নাম ‘থ্রি আই/অ্যাটলাস’ (3I/ATLAS)। এটি একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু, অর্থাৎ সৌরজগতের বাইরে থেকে এসেছে।

জুস মহাকাশযানের বৈজ্ঞানিক ক্যামেরা ‘জেনাস’ দিয়ে ছবিটি তোলা হয় ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর। এটি তোলা হয়েছিল ধূমকেতুটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে যাওয়ার সাত দিন পর। তখন মহাকাশযানটি ধূমকেতু থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে ছিল। এত দূরত্ব থেকেও ক্যামেরায় ধূমকেতুর চারপাশের উজ্জ্বল গ্যাসের বলয় স্পষ্ট ধরা পড়ে। এই বলয়কে বলা হয় ‘কোমা’ (ধূমকেতুর কেন্দ্রকে ঘিরে থাকা গ্যাসের স্তর)। পাশাপাশি সূর্য থেকে বিপরীত দিকে প্রসারিত লম্বা লেজও ছবিতে দেখা যায়।

ছবিতে কোমার ভেতরে আরও সূক্ষ্ম গঠনও দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রশ্মির মতো রেখা, গ্যাসের জেট, প্রবাহ ও সূক্ষ্ম সুতোসদৃশ অংশ। গবেষকরা ছবির একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছেন, যাতে এসব বৈশিষ্ট্য আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ছবিতে তীর চিহ্ন দিয়ে ধূমকেতুর চলার দিক এবং সূর্যের অবস্থানও দেখানো হয়েছে। এতে বোঝা যায় সূর্যের তাপ ধূমকেতুর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদিও থ্রি আই/অ্যাটলাস সৌরজগতের বাইরে থেকে এসেছে, তবুও এর আচরণ সাধারণ ধূমকেতুর মতোই। সূর্যের কাছে আসলে এর বরফ গরম হয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। তখন ধুলা ও গ্যাস বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই ধূমকেতুর চারপাশে কোমা ও লম্বা লেজ তৈরি হয়, যা ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে। এই ধরনের ছবি বিজ্ঞানীদের মহাকাশের দূরবর্তী বস্তু সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানতে সাহায্য করছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.