পৃথিবীর বুকে পবিত্র কাবা ঘর যেমন মহান আল্লাহর ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি সপ্তম আসমানে ফেরেশতাদের ইবাদতের জন্য রয়েছে একটি পবিত্র ঘর। ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয় বাইতুল মামুর বা আবাদ করা ঘর। সপ্তম আসমানে কাবা শরীফের ঠিক বরাবর উপরে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরটি মূলত ফেরেশতাদের কাবা। এর ঠিক উপরেই রয়েছে মহান আল্লাহর আরশ।

পবিত্র কোরআনের সূরা তুরে এই সম্মানিত ঘরটির শপথ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, শপথ বাইতুল মামুরের (আসমানি ঘর যা কাবার সদৃশ এবং ফেরেশতাদের দ্বারা সদাসর্বদা পরিবেষ্টিত)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রজনীতে যখন সপ্তম আসমানে পৌঁছান, তখন তাকে এই পবিত্র ঘরটি দেখানো হয়। বুখারি ও মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিবরাঈল (আ.) নবীজিকে জানান, এটিই হলো বাইতুল মামুর। এখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং একবার বের হয়ে গেলে তারা আর কোনোদিন সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০ হাজার করে নতুন ফেরেশতার একটি দল সেখানে ইবাদত করতে আসে। এটি আমাদের সামনে ফেরেশতাদের বিশাল সংখ্যার একটি ধারণা দেয়, যা পৃথিবীর মানুষের তুলনায় অগণিত।
মিরাজের সেই দীর্ঘ হাদিসে বলা হয়েছে, বাইতুল মামুর দেখার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দুটি পাত্র আনা হয়। একটি ছিল মদের এবং অন্যটি দুধের। নবীজি (সা.) দুধের পাত্রটি বেছে নিলে জিবরাঈল (আ.) বলেন, আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। এরপরই উম্মতের জন্য প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল, যা পরে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়।
বলা হয়ে থাকে, কিয়ামত পর্যন্ত এই চক্র চলতেই থাকবে। ফেরেশতাদের প্রতিটি দল ইবাদত শেষ করে আসমানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সেখানে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বাইতুল মামুরের এই বর্ণনা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। এটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর আমাদের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং অবিরাম ইবাদতের জন্য তার অগণিত ফেরেশতা বাহিনী রয়েছে। আমাদের নিজেদের কল্যাণ, পরকালের মুক্তি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতেই আমাদের ইবাদত করা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালার দয়া ছাড়া এই দুনিয়া বা পরকালে সফলতা পাওয়া অসম্ভব—এই সত্যটিই ফুটে ওঠে বাইতুল মামুরের মাহাত্ম্যের মাঝে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


