জুমবাংলা ডেস্ক : দুবাইয়ের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খান। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে পরিচয় দিয়ে মেহেরপুরের এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে মেহেরপুরে গিয়ে ওই তরুণীর মামার মোটরসাইকেলসহ তরুণীকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে এসেছিলেন আরাভ।

আরাভ খান

Advertisement

জানা গেছে, সুরাইয়া আক্তার কেয়া নামের ওই তরুণীর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে। আরাভের সঙ্গে ঢাকায় পালিয়ে আসার পর তারা বিয়ে করেন। পুলিশ পরিদর্শক হত্যাকাণ্ডের পর কেয়ার সঙ্গে আরাভের বিচ্ছেদ ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কেয়াকেও আসামি করা হয়েছিল।

কেয়ার মামা গাড়াডোব গ্রামের কামরুজ্জামান বলেন, ভাগনির বন্ধু হিসেবে আমরা তাকে (আরাভ খান) যথেষ্ট সম্মান করি। কিন্তু তিনি যে এতবড় প্রতারক তা আগে জানা ছিল না। তিনি নিজেকে আপন জুয়েলার্সের মালিক পরিচয় দিয়েছে। আবার আমার শখের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। অনুরোধ করেও যখন মোটরসাইকেল ফেরত পাইনি, তখন গাংনী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম। এই জিডি তুলে নিতে তিনি মেহেরপুরের কয়েকজন নেতাকে দিয়ে তিনি আমাকে চাপ দিয়েছিলেন। ওই নেতাদের কাছে আরাভ নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমাকে চাপ দিতে বলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আরাভ আমার ভাগনির জীবন তছনছ করে দিয়েছে। আরাভের সঙ্গে থাকার কারণে সে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি হয়েছে। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কেয়াকে সুন্দর জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কেয়ার বাবা আবুল কালাম আজাদ জানান, কেয়ার মা মনোয়ারা বেগম তার খালাতো বোন। ১৯৯৬ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু একটি মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে তাদের সংসারে ফাটল ধরে। এরই মাঝে কেয়া বড় হতে থাকে। ২০১১ সালে জেল থেকে বের হয়ে আবুল কালাম জানতে পারেন তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। এরপর মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে কেয়ার মা অন্যত্র বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। ২০১৩ সালে কেয়া এসএসসি পাশ করে। এরপর তার মা তাকে ঢাকার একটি ম্যাটস কলেজে ভর্তি করে দেন।

তিনি আরও জানান, কেয়া ঢাকায় ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি শুনতে পান তার মেয়ে আপন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি না কি আপন জুয়েলার্সের মালিক। এরপর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৪ ও ১৫ সালে কেয়া তার স্বামী আপনকে নিয়ে গাড়াডোব গ্রামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তখন বিলাসবহুল জীবন যাপন করতো তারা। কেয়ার বাবা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তার মেয়ের জামাই সন্ত্রাসীকাণ্ডে সাথে জড়িত। এর কিছুদিন পরই খবর আসে কেয়া একটি পুলিশ হত্যা মামলার আসামি। পরে কেয়াকে জেলেও যেতে হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর কারাবাসের পর ২০২২ সালে জামিনে মুক্তি পায় কেয়া। পরে আরাভ খান ওরফে আপনকে ডিভোর্স দিয়ে শাহিন নামে এক যুবককে বিয়ে করে মালয়েশিয়া চলে যান।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সুরাইয়া আক্তার কেয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ হত্যা মামলায় সে জামিনে ছিল বলে জানতে পেরেছি। তবে সে বর্তমানে সত্যিকার অর্থে কোথায় আছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

২৪ বছর পর হেলিকপ্টারে প্রবাসীর বাড়ি ফেরা

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.