দেশে এমনিতেই গ্যাসের অবস্থা খুব খারাপ। তার ওপর আজ দুপুর থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার জন্য জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও কমছে। এই সময়ে প্রায় ৩০–৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলেরেটের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মেরামতের কাজ চলার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আজ থেকেই সারা দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বসতবাড়ি, দোকানপাট, কলকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই মাসের শুরু থেকে এলপিজি বাজারে সংকট ও বাড়তি দামের চাপ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে। এই সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম অনুভূত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলেও টার্মিনাল মেরামতের সময় সেই সরবরাহও কমে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বসতবাড়ির গ্রাহকরা। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার রান্নার সময়ে অনেক জায়গায় চুলায় আগুন জ্বালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। শীতের সময় রান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্মে এই সংকট আরও বেশি ভোগাচ্ছে মানুষকে।
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজির বাজারেও একই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়া, পরিবহণ সমস্যা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে এলপিজির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও। অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও শিফট কমানো হচ্ছে, আবার কিছু জায়গায় আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ছে, এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। তবে চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক সরবরাহ কম থাকায় বসতবাড়িসহ সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। সাময়িক এই সমস্যার জন্য তারা গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংকটের সময় গ্যাস সাশ্রয় করে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


