মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের শোলধারা এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুলতানা আক্তার শুক্রবার বিকেলে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে শাহ আলম বিল্লাল, কামরুল, শাহিন মোল্লাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শোলধারা গ্রামের বাসিন্দা মো. লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এ নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এর জেরে বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লুৎফর রহমান শোলধারা বটতলা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে শোলধারা কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও স্টিলের পাইপ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে খবর পেয়ে তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে তারা দুজনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লুৎফর রহমানকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “শোলধারা এলাকায় একজনকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



