মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে আবাদি জমির পাশ থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এতে এক অসহায় বৃদ্ধা নারীর বসতভিটা, আবাদি জমি এবং পাশের একটি সরকারি সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বুধবার দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর কালিকাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা খোদেজা আক্তার।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, যমুনা নদীর শাখা নদীর ভাঙনে খোদেজা আক্তারের নিজস্ব জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর তিনি অন্যের জমিতে একটি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। দীর্ঘদিন পর প্রায় দুই বছর আগে তার জমি পুনরায় জেগে ওঠে। এরপর থেকে তিনি ওই জমিতে বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
খোদেজা আক্তারের অভিযোগ, স্থানীয় মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুস সালাম, বাচ্চু মিয়ার ছেলে নান্নু মিয়া এবং আবুল কালাম আজাদের ছেলে রনি তার জমির পাশেই অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এতে তার আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং পাশের সরকারি সড়কও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাটি কাটা বন্ধ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আব্দুস সালাম উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এবং নান্নু মিয়া চকমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তাদের প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে তার একমাত্র সম্বল বসতভিটা ও আবাদি জমি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ করা না হলে তার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
যুবদল নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ওই নারীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সে বলেছে, আমার নামে এক সাংবাদিক তাকে অভিযোগ দিতে বলেছে। এভাবে একজনকে হেয়প্রতিপন্ন করলে এটা মুশকিল।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের কপি এসিল্যান্ডের কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



