ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ‘আই অ্যাম নট অ্যা রোবট’ বা ক্যাপচা পরীক্ষা এখন পরিচিত একটি বিষয়। কখনো ট্রাফিক সিগন্যাল, কখনো সাইকেল বা বাসের ছবি নির্বাচন করে নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে হয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে এই প্রচলিত পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই বট ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে গুগল।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয় বটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকের ধারণা, অনলাইনে মানুষের চেয়ে বটের উপস্থিতি এখন বেশি। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে গুগল পরীক্ষামূলকভাবে এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা তৈরি করছে, যেখানে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি দেওয়ার পর ক্যামেরায় হাতের সংক্ষিপ্ত নড়াচড়ার একটি ভিডিও ধারণ করা হবে। এরপর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে হাতের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে ব্যবহারকারী মানুষ নাকি কোনো স্বয়ংক্রিয় বট।
গুগলের দাবি, এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য কেবল মানব উপস্থিতি যাচাই করা। ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি ব্যবহার করা হবে না। এছাড়া ভিডিও ধারণের সময় কোনো অডিও রেকর্ড করা হবে না এবং যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভিডিও মুছে ফেলা হবে।
তবে নতুন এই প্রযুক্তি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। যারা ক্যামেরা ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক, তারা আগের মতো ছবি-ভিত্তিক ক্যাপচা বা অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতিতে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত ক্যাপচা ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।
গুগলের মতে, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ছবি-নির্ভর অনেক ক্যাপচা সহজেই সমাধান করতে পারে। এতে বটের পক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক হাতের নড়াচড়া, ভঙ্গি ও আচরণ নিখুঁতভাবে অনুকরণ করা এখনো তুলনামূলক কঠিন। তাই নতুন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিটি নিয়ে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। তাদের আশঙ্কা, ক্যামেরা-ভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে। যদিও গুগল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রযুক্তিটি উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মানুষ ও বট শনাক্ত করতে আরও উন্নত বায়োমেট্রিক ও আচরণভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। গুগলের নতুন উদ্যোগকে সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



