হঠাৎ আকাশে উজ্জ্বল কোনো আলো দেখা দিলে অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। এবার এমনই এক মহাজাগতিক ঘটনার অপেক্ষায় বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি নতুন ধূমকেতু আগামী এপ্রিল মাসে সূর্যের খুব কাছ দিয়ে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে, এটি দিনের আলোতেও চোখে পড়ার সম্ভাবনা রাখে।

এই ধূমকেতুর নাম সি/২০২৬ এ১ (ম্যাপস)। গত ১৩ জানুয়ারি চিলির আতাকামা মরুভূমিতে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত টেলিস্কোপের মাধ্যমে চারজন শৌখিন জ্যোতির্বিদ প্রথম এটি শনাক্ত করেন। পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এটি একটি বিরল ধরণের ধূমকেতু দলের অন্তর্ভুক্ত, যা সূর্যের খুব কাছ দিয়ে যায়—এই দলকে বলা হয় সূর্যছোঁয়া ধূমকেতু।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে ম্যাপস সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। মহাকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি খুব কাছের পথ। এ সময় প্রচণ্ড তাপে অনেক ধূমকেতু ভেঙে যায়। তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ম্যাপস কি সূর্যের কাছে পৌঁছে টিকে থাকবে?
ইতিহাস দেখিয়েছে, এই ধরনের সূর্যছোঁয়া ধূমকেতু কখনও আকাশে অবিস্মরণীয় দৃশ্য তৈরি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৮৮২ ও ১৯৬৫ সালে দেখা ধূমকেতুগুলো এত উজ্জ্বল ছিল যে দিনের বেলাতেও খালি চোখে দেখা গিয়েছিল। তবে সব ধূমকেতু এত সৌভাগ্যবান হয় না; অনেক সময় সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এগুলো ভেঙে যায়।
নাসার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ম্যাপস ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এটি তুলনামূলকভাবে বড় একটি টুকরো হতে পারে। যদি সূর্যের নিকটে গিয়ে এটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে, তাহলে উজ্জ্বলতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন আকাশে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূর্যের পাশ কাটানোর পর, ধূমকেতুটি সন্ধ্যার আকাশে দেখা যাবে। দক্ষিণ গোলার্ধে এটি পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে অনুকূল অবস্থায় থাকবে। বাংলাদেশ থেকেও উপযুক্ত পরিস্থিতিতে দূর আকাশে এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন জ্যোতির্বিদরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


