রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের মতো ছুটে যাওয়া আলোর রেখা—এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সৃষ্টি করছে লিরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা গেছে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর সর্বাধিক উল্কাপাত ঘটে ২২ বা ২৩ এপ্রিলের দিকে। এ বছরও সেই সময়েই এর শিখর পর্যায় ছিল। উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সময়টি ছিল উল্কা দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি উল্কা দেখা যায়। তবে কখনো কখনো এ সংখ্যা বেড়ে একশো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্কা এতটাই উজ্জ্বল হয় যে তা শুক্র গ্রহের আলোকেও ছাড়িয়ে যায়।
এই উল্কাবৃষ্টির নামকরণ করা হয়েছে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডল থেকে। এর উল্কাগুলো মূলত ‘কমেট থ্যাচার’ নামের একটি ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্টি হয়। ধূমকেতুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪১৫ বছর সময় নেয়। চীনের প্রাচীন নথিতে উল্লেখ আছে, এই উল্কাবৃষ্টি প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরের আগের সময়টি উল্কা দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এ সময় আকাশে এর উৎসবিন্দু সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে থাকে। শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে অন্ধকার স্থানে গেলে বেশি উল্কা দেখা যায়। তবে উজ্জ্বল উল্কাগুলো শহর থেকেও দেখা সম্ভব।
এ বছর চাঁদ সরু অবস্থায় থাকায় আকাশে আলো কম ছিল, ফলে উল্কা পর্যবেক্ষণে তেমন কোনো বাধা হয়নি। কোনো বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে কিছু সময় চোখ অন্ধকারের সাথে মানিয়ে নিলেই এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


