এশিয়ার এক ধরনের ফুল উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরেছে এক ব্যতিক্রমী প্রশ্ন। বিবর্তনের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে না মিল থাকায় এই ফুলের আচরণকে বিজ্ঞানীরা বলছেন এক রহস্যজনক ব্যতিক্রম।

ফুলটির নাম লিপস্টিক লতা। এশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে এই গাছের ফুল সাধারণত লম্বা, উজ্জ্বল লাল এবং নলাকার আকৃতির। এমন ফুলে সাধারণত সূর্যপাখি—যাদের ঠোঁট লম্বা—সহজে মধু সংগ্রহ করে এবং পরাগায়নের কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু তাইওয়ানে এই একই প্রজাতির ফুল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সেখানে ফুলগুলো আকারে ছোট, তুলনামূলক চওড়া এবং রঙে হলুদ-সবুজ।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—তাইওয়ানে সূর্যপাখির অস্তিত্ব নেই। তবুও এই লিপস্টিক লতা সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছে এবং পরাগায়নের প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য প্রথম নজরে আনেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী জিং-ই লু। তার কৌতূহল ছিল দুটি প্রশ্ন ঘিরে—সূর্যপাখি না থাকলে এই ফুলে পরাগায়ন হয় কীভাবে, আর কেনই বা একই গাছের ফুল এক জায়গায় এক রকম, অন্য জায়গায় আরেক রকম?
সাধারণভাবে বিবর্তন তত্ত্ব বলছে, কোনো উদ্ভিদ নতুন পরিবেশে গেলে সেখানকার পাখি বা পোকামাকড়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ফুলের গঠন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু লিপস্টিক লতার ক্ষেত্রে এই চিরাচরিত নিয়ম খাটেনি।
গবেষকরা ফুলটির ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখেন, তাইওয়ানে পৌঁছানোর আগেই এই ফুলের আকার ও রঙে পরিবর্তন ঘটেছিল। অর্থাৎ নতুন পরিবেশে গিয়ে নয়, বরং তার আগের আবাসস্থলেই এই বিবর্তন ঘটে। এ তথ্য বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
গবেষণায় আরও জানা যায়, তাইওয়ানে ছোট ঠোঁটের কিছু পাখি এই ফুলে নিয়মিত আসে। ফুলের চওড়া ও খোলা গঠন তাদের জন্য মধু সংগ্রহকে সহজ করে তোলে। একই ধরনের ছোট ঠোঁটের পাখি মূল ভূখণ্ডেও এই ফুলে আসে—সূর্যপাখির পাশাপাশি।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, বহু বছর আগে কোনো এক সময় সূর্যপাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে গাছটি বিকল্প পরাগায়নকারীদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। সেই সময়েই হয়তো ফুলের গঠনে এই পরিবর্তন ঘটে। তবে এ ধারণার পক্ষে এখনও সরাসরি প্রমাণ মেলেনি।
এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, প্রকৃতির নিয়ম সব সময় সরল ও পূর্বানুমেয় নয়। পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভিদও কখনো কখনো এমন পথে বিবর্তিত হয়, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


