বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা এমন এক নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, যেখানে আপনার ফোনে কোনো ম্যালওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন পড়ে না, পাসওয়ার্ড চুরি করতে হয় না, এমনকি সরাসরি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করারও দরকার হয় না। ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে তারা আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠিয়ে অর্থ উপার্জন করছে, আর সেই বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে ব্যবহারকারীকেই। পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হয় মাত্র একটি ক্লিক থেকে।

এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক কীভাবে কাজ করে
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রায়ই ‘আপনি কি রোবট?’—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। একসময় যাকে CAPTCHA বলা হতো, সেটি এখন বিকৃত লেখা শনাক্ত করা বা ছবির নির্দিষ্ট অংশ নির্বাচন করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
কিন্তু এই পরিচিত পদ্ধতিকেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ক্লিকফিক্স’ নামে একটি কৌশল ব্যবহার করে ভুয়া ক্যাপচা পেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পেজে ব্যবহারকারীদের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়—যেমন কোনো কমান্ড কপি করা বা নির্দিষ্ট বাটনে ক্লিক করা।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Malwarebytes-এর গবেষক পিটার আরন্টজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, একটি চলমান সাইবার আক্রমণে ভুয়া ক্যাপচা পেজের মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহারকারীদের অজান্তেই বহু আন্তর্জাতিক নম্বরে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।
কীভাবে ফাঁদে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা
অপরাধীরা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহারকারীদের এসব ভুয়া পেজে নিয়ে যায়। কখনও ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন, আবার কখনও পরিচিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়, যেগুলোর ডোমেইনে সামান্য বানান ভুল থাকে।
এরপর ব্যবহারকারীকে একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়। ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনের এসএমএস অ্যাপ খুলে যায়, যেখানে আগে থেকেই মেসেজ লেখা এবং প্রাপকের নম্বর নির্ধারিত থাকে।
এই আক্রমণের বিশেষ কৌশল হলো—একটি নম্বরে নয়, বরং একাধিক ধাপে বহু আন্তর্জাতিক নম্বরে একসঙ্গে এসএমএস পাঠানো হয়। এতে আজারবাইজান, মিয়ানমার এবং মিশরসহ প্রায় ১৭টি দেশের নম্বর ব্যবহার করা হয়, যেখানে এসএমএস চার্জ তুলনামূলক বেশি।
এই পদ্ধতিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ শেয়ার ফ্রড’ বলা হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নম্বরে ট্রাফিক তৈরি করে সেই আয়ের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে ফিরে যায়। এর ফলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ ডলার পর্যন্ত বিল আসতে পারে।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি—
-নিজেকে মানুষ প্রমাণ করতে কখনও এসএমএস পাঠাবেন না
-আসল ক্যাপচা কখনও এসএমএস অ্যাপ খুলতে বলে না
-অচেনা লিংক বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন
তবে বাস্তবতা হলো—ব্যস্ততা বা অসতর্কতার কারণে অনেক সময় আমরা না ভেবেই ক্লিক করে ফেলি। আর ঠিক সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা।
সূত্র: ফোর্বস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


