সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক গৃহবধুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তারের একদিন পরই আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

অভিযুক্ত মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) ঘিওর উপজেলার শৈলকুড়া গ্রামের রহম আলীর ছেলে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল এক গৃহবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগীর মা ঘিওর থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটিকে যৌন নিপীড়নের মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলার শুনানি শেষে সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১ জুন ঘিওর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২ জুন ট্রাইব্যুনাল ছুটি থাকায় তাকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারের পরদিনই অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “ঘটনার সময় আমি আমার অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। বাড়িতে আমার দুই মেয়ে একা ছিল। সেই সুযোগে শরিফুল আমার মেয়ের ওপর ধর্ষণচেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাই এবং থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু ওসি স্যার মামলা না নেওয়ায় পরে আদালতের মাধ্যমে মামলা করতে বাধ্য হই।”
তিনি বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে বিচার চেয়ে আসছি। অবশেষে আসামি গ্রেপ্তার হলেও একদিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে গেছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। মামলা করার পর থেকেই তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। জামিন পাওয়ার পর আমাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তার ছোট মেয়েকেও নির্যাতন করা হয়েছিল এবং তার গলা চেপে ধরা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী গৃহবধু বলেন, “আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। মা হাসপাতালে থাকায় আমি ও আমার ছোট বোন বাড়িতে ছিলাম। শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। একদিন গোসল করার সময় সে পেছন থেকে আমাকে জাপটে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং কামড় দেয়। কোনোভাবে তার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানাই। এতদিন পরও আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। পুলিশ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে।”
মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রথমে বাদী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/৩০ ধারায় পিটিশন মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আইনের ১০ ধারায় অভিযোগ গঠন ও চার্জ ফ্রেম করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।”
তিনি বলেন, “জামিন দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। সংশ্লিষ্ট ধারা অজামিনযোগ্য হলেও বিচারক মামলার নথি, তদন্তের অবস্থা ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন।”
মামলার প্রধান অভিযুক্তের দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



