মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ বা ‘ট্রাম্প ফোন’ নামে একটি নতুন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। সীমিত সংখ্যক প্রযুক্তি সাংবাদিক ও প্রি-অর্ডার করা গ্রাহকদের কাছে ডিভাইসটি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী প্যাট ও’ব্রায়েন আগে জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহ থেকে ফোনটির শিপিং শুরু হবে। বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া আংশিকভাবে শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমবার ডিভাইসটি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের জুনে। তখন এটিকে ‘সোনালি রঙের, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন হিসেবে বাজারজাত করা হয়, যার দাম ধরা হয়েছিল ৫০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬২ হাজার টাকা। তবে পরে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রি-অর্ডার ও ডেলিভারি সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির প্রকৃত উৎপাদন কোথায় হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। প্যাকেজিংয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ না লিখে বরং ‘যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজিত’ লেখা দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক আনবক্সিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটিতে ৬.৭৮ ইঞ্চি এমোলেড ডিসপ্লে, ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজ, ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৫০ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে। এতে একটি অষ্টকোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেনার ৩ সিরিজের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিভাইসটিতে হেডফোন জ্যাক রাখা হয়েছে, যা আধুনিক স্মার্টফোনে এখন বিরল একটি বৈশিষ্ট্য। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যম মানের অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর সমতুল্য।
ফোনটিতে আগে থেকেই ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাপ ইনস্টল করা রয়েছে। পাশাপাশি সোনালি রঙের ডিজাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে এটি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।
তবে ডিভাইসটির বিপণন কৌশল, উৎপাদনের দাবি এবং গোপনীয়তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি মূলত একটি ব্র্যান্ডনির্ভর স্মার্টফোন উদ্যোগ, যেখানে হার্ডওয়্যার বৈশিষ্ট্যের চেয়ে রাজনৈতিক ও মিডিয়া ব্র্যান্ডিং বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



