একটি সাধারণ দুপুর। বাড়িতে সময় কাটাচ্ছিল ১৬ বছরের কিশোর জুবায়ের। কয়েক মাস আগেই সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সামনে ছিল ফলাফল, উচ্চশিক্ষা আর নতুন স্বপ্নের পথচলা। কিন্তু মুহূর্তের এক দুর্ঘটনায় থেমে গেল সেই সব স্বপ্ন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভোগাইল বগাদি গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় জুবায়ের। সে ওই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে এবং চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়িতে অবস্থান করছিল জুবায়ের। একপর্যায়ে সে বাড়ির একটি লোহার গ্রিলে হাত দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পেছনে ছিল বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ। জুবায়েরের বন্ধু শাকিল জানান, বাড়ির গ্রিলের সঙ্গে সংযুক্ত একটি বৈদ্যুতিক তারে ত্রুটি ছিল। ফলে গ্রিলটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। বিষয়টি পরিবারের কারও জানা ছিল না। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিতেই বিদ্যুতের আঘাতে প্রাণ হারায় জুবায়ের।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জুবায়েরের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলছেন, সামান্য একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটি যে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ, লোহার গ্রিল, গেট ও খোলা তার নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। সামান্য অসতর্কতা বা অজানা লিকেজ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



