ঘরের শীতল বাতাসের যন্ত্রেই যদি লুকিয়ে থাকে বিষধর অতিথি, তবে আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। বরিশালের এক বাসিন্দার বাড়িতে এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। বেডরুমের এসির ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি জীবন্ত সাপ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের হাজীবাড়ি এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা জীবুল হক সেন্টুর শয়নকক্ষের এসির ভেতরেই সাপগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।
শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে সেগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া চারটি সাপ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যানিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-এর সদস্যরা।
বাড়ির মালিক জীবুল হক সেন্টু জানান, শুক্রবার রাতে তিনি এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই কক্ষে যাতায়াত বন্ধ করে দেন।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করলে তাকে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর শনিবার বিকেলে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।
সংগঠনটির পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে চারটি সাপ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এসির বাইরের অংশ বা আউটডোর ইউনিটে আরও একটি সাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
তার ধারণা, এসির ভেতরের উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশের কারণেই সাপগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় সাপ শুকনো ও নিরাপদ জায়গার খোঁজে ঘরবাড়ি কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ভেতরে ঢুকে পড়ে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই বরিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে চারটি এবং নগরীর সাগরদী এলাকা থেকে আরও একটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির ভেতরে বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের আশপাশে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত উদ্ধারকারী সংস্থা বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



