Advertisement

মোঃ সোহাগ হাওলাদার : সাভারের আশুলিয়ায় এক প্রবাসীর কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে আশুলিয়ায় ছয় শতাংশ জমিসহ একটি বাড়ি কিনে বিপাকে আবুল বিশ্বাস। স্বপ্ন ছিল জীবনের শেষে সময়টা একটু শান্তিতে কাটানোর। এর সেই স্বপ্ন এখন রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। জমি বিক্রেতার দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় লাগাতার হুমকি ও মারধরে শিকার হচ্ছেন তারা। সব মিলিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন এই প্রবাসীর পরিবার।

অসহায় প্রবাসী

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে এমন অভিযোগ করেন প্রবাসীর পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৩ সালে দুবাই থেকে দেশে ফিরে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা দিয়ে আনোয়ার হোসেন আয়নাল নামে এক ব্যক্তির নিকট থেকে ছয় শতাংশ জমিসহ একটি একতলা বাড়ি কিনেন আবুল বিশ্বাস। প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়। দিন দিন তা রূপ নেয় ভয়ংকার পরিস্থিতে। প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মাধ্যমে হয়রানি শুরু করলেও পরে প্রবাসীরকে ওই বাড়িতে থাকতে দিবে না মর্মে দফায় দফায় হামলা ও ভাংচুর চালায় জমির বিক্রেতা আয়নাল ও তার ক্যাডার বাহিনী। শুধু হামলা নয়, বাড়ির জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করেছে আয়নাল বাহিনী।

আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বাড়ি কেনার পর থেকেই নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি শুরু করে আয়নাল। গত তিন মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে। কয়েক বার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে সহ আমাদের ভাড়াটিয়াদের মারধরও করেছে। ভাড়াটিয়া ভয়তে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। এখন আমাদের বাসায় নতুন কোন ভাড়াটিয়া আসে না, তাই সব বাসা খালি।

তিনি জানান, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। জোর পূর্বক তুলে নিয়ে গেছে পানির মোটর। যার ফলে পানি ও বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন না।আসে পাসে ভয়ে কেউ এক কলসি পানিও দেয় না।

অসহায়ত্ব কন্ঠে ঝর্ণা খাতুন বলেন, “আমরা যাব কোথায়? থানায় মামলা করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। পুলিশও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

ভুক্তভোগী প্রবাসী আবুল বিশ্বাস বলেন, “ দীর্ঘ ১৭ বছর দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে এক টাকাও অপচয় করিনি। সব টাকা দিয়ে এই বাড়িটা কিনেছি। এখন আয়নাল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। না দিলে এখানে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। বাড়িতে এসে মারধর করছে। আমরা খুব ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।”

আবুল বিশ্বাস আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আয়নালকে আটক করে পুলিশ। পরে রকি দেওয়ান নামের এক বিএনপি নেতা ও পুলিশ আমাকে আশ্বাস দেন যে, সে আর হয়রানি করবে না। তাই আমি তাকে ছেড়ে দেওয়ার মর্মে সমর্থন জানাই। কারণ আমি বিবাধ পছন্দ করি না। তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তার হয়রানির মাত্র আরও কয়েকগুন বেড়ে যায়। আমি এই বিষয়ে বারবার ওই বিএনপি নেতার সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় আয়নাল আমার কথা শুনে না, আমি কিছু করতে পারবো না।

ভুক্তভোগী আবুল বিশ্বাস জানান, আয়নাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ তাদের পক্ষে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। আয়নালদের ছয় ভাই। আশপাশের মানুষজন সবাই ওদের ভয়ে থাকে। কেউ সাক্ষী দিতে রাজি নয়। থানায় গেলেও যেন তাদের কথাই বেশি শোনা হয়। আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সব হারানোর শঙ্কা নিয়ে এই প্রবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন- “দেশে ফিরে নিজের ঘরেও কি একজন প্রবাসী নিরাপদ থাকতে পারবেন না?”

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আয়নাল এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কথা বলে কেউ ঝামেলায় পড়তে চায় না। তাই সবকছিু জানার পরেও তারা চুপ থাকেন।

এদিকে, এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন আবুল বিশ্বাস ও তার পরিবার।

প্রবাসীর বাসায় হামলার বিষয়ে কথা বলতে যুবদল নেতা রকি দেওয়ান জুমবাংলা’কে বলেন, হামলার বিষয় বলতে পারবো না তবে ওরা(প্রবাসীর পরিবার)একটু বেশি কথা বলে,তাদের কথাবার্তায় এক পর্যায়ে তাদের কাছে আমি মাফ চাইছি,তবে এদের ভিতরে কি ভুল বোঝাবুঝি জানি না,তবে এরা দুরন্ত,এদের চাওয়া পাওয়া অনেক বেশি,একটা জিনিস হইছে ভুল বোঝাবুঝি আমি সমাধান করে দিয়েছি,এর পর এরা একটার পর একটা অভিযোগ ধইরাই রাখে,তাহলে এদের কে কি আর সমাধান কইরা দেওয়া যায়

মামলার বিষয়ে কথা বলতে একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহাসানুর রহমান প্রধানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জুমবাংলা’কে বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন আছে তবে কোন গ্রেপ্তার নেই,গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

অন্যদিকে থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা ভিন্ন একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ““আমি যেহেতু আপনাকে চিনি না, এ ব্যাপারে আমি মামলা তদন্তাধীন, আমি এ ব্যাপারে অপিনিয়ন দিতে পারছি না।”

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.