গত সোমবার সূর্য থেকে নির্গত শক্তিশালী সৌর বিকিরণের কারণে পৃথিবীতে বিরল সৌরঝড় আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে আকাশে উজ্জ্বল রঙিন অরোরা বা মেরুজ্যোতি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (এসডব্লিউপিসি) জানিয়েছে, উড়োজাহাজ চলাচল ও জিপিএস ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এসডব্লিউপিসি জানায়, এই সৌরঝড়ের তীব্রতা পাঁচের মধ্যে চার নম্বরে অবস্থান করছে এবং এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌরঝড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সৌর বিকিরণ ঝড় বলতে সূর্য থেকে বিপুল সংখ্যক দ্রুতগতির চার্জযুক্ত কণার পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসাকে বোঝায়।
এর ফলে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ, বিমান চলাচল এবং স্যাটেলাইট পরিচালনায় প্রভাব পড়তে পারে। সর্বশেষ এমন ভয়াবহ ঝড় দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালের অক্টোবরে, যখন সুইডেনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পৃথিবীতে সৌরঝড় পৌঁছালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের জন্য বিকিরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চালানো যাত্রীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে। পূর্বাভাসকারী শন ডাল জানান, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পরিচালনাকারীদের আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা প্রস্তুত থাকতে পারে।
যদি বিকিরণের মাত্রা বেড়ে যায়, মহাকাশচারীরা স্টেশনের অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত অংশে অবস্থান নেন। এছাড়া স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌর পদার্থবিদ রায়ান ফ্রেঞ্চ জানান, সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল না।
এই সৌরঝড়ের মূল কারণ হলো করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই)। সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল থেকে প্লাজমা ও চৌম্বক ক্ষেত্রের বিস্ফোরণ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে চৌম্বক ক্ষেত্রকে বিঘ্নিত করে। রোববার সূর্য থেকে নির্গত এই সিএমইটি ছিল এক্স-ক্লাস সৌর শিখা থেকে, যা সবচেয়ে শক্তিশালী ধরনের সৌর শিখা।
সৌর কার্যকলাপ বাড়লে মেরু অঞ্চলে রঙিন অরোরা দেখা যায়। উত্তর গোলার্ধে ‘অরোরা বোরিয়ালিস’ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ সৃষ্টি হয়। সূর্য থেকে আসা শক্তিশালী কণাগুলো পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এই উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল, আলাবামা ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত অরোরা দেখা যেতে পারে। তবে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকনির্দেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে দেখা যায়নি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উজ্জ্বল ও বর্ণিল অরোরা নজর কাড়ে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


