জুমবাংলা ডেস্ক : বগুড়ার শেরপুরে আলুর বাম্পার ফলনের আশায় আলুচাষিরা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৈরি আবহাওয়ার কবলে না পড়লে এবার আলুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন এবং স্বপ্ন বুনছেন এই উপজেলার চাষিরা। উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্য দামও পাওয়ার আশা তাদের। গত মৌসুমে আলুর ভালো ফলন হলেও কিছুটা দাম কম হওয়াতে ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি আলু ষ্টোর করে চরম লোকশান গুণতে হয়েছে ব্যবসায়দের। আগের সব দুঃখ ভুলে এবছরও বিপুল পরিমাণ জমিতে নতুন করে আলু চাষ করেছেন শেরপুরের চাষিরা।

Potato

Advertisement

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৬২৫ হেক্টর। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দুই হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলু ক্ষেতে ভাইরাস নেই বললেই চলে। তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি কৃষককে। যেকারণে বাম্পার ফলনে চাষিরা অনেকটা আশাবাদী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পোর্ষি, আমইন, পানিশারা, বৌউ বাজার, দারুগ্রাম, খুরতা, দক্ষিণ আমইন, তালতাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মাঠজুড়ে যে দিকে চোখ যাবে সেদিকে শুধু দেখা যাবে আলুর ক্ষেত। গাছ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলুর ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন। তবে ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলনের সময় কাঙ্কিত দাম পাবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন আলুচাষিরা।

পোষি গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, এ বছর ১১ বিঘা জমি চাষ করেছি। আলু ক্ষেতের লক্ষণ দেখে ভালো মনে হচ্ছে। আর কিছুদিন গেলেই এসব জমি থেকে আলু তোলা হবে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু কিছু জমির আলু বাজারে তোলা হয়েছে। দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন বাজারে আলুর দাম ভালো থাকলেও সামনে আলু তোলার উপযুক্ত সময়ে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে আমরা আলু সংরক্ষণের জন্য উপজেলার কোল্ডস্টোরেজগুলোতে যোগাযোগ করছি। কিন্তু সেখানে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই বুকিং দেওয়ায় আমাদের মতো ছোট চাষিদের তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছিনা।

দক্ষিন আমইন গ্রামের আলুচাষি আলহাজ্জ্ব হারেজ জানান, আমি ৯০ বিঘা জমি চাষ করেছি। গাছ খুব ভালো হয়েছে। সব কিছুর দাম বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এ বছর বেড়েছে সার, কীটনাশকের ও শ্রমের ব্যয়।

শেরপুর উপজেলার পানিসারা গ্রামের আলুচাষি ফজলু, আশরাফুল, মকবুল হোসেন বলেন, গতবছর শুরুতে দাম ভালো পাওয়া গেলেও শেষের দিকে দাম কমে গিয়েছিল। তবে এ মৌসুমে আলু চাষের জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার কোল্ড স্টোরেজগুলোতে বড় বড় ব্যবসায়ীরা দখলে নেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা অতীতের ন্যায় কৃষককে জিম্মি করে পানির দরে আলু কিনে কোল্ড স্টোরেজে মজুদ রাখার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এক বিঘা জমিতে ১শ থেকে ১২০ মন আলু হয়। বর্তমানে আলুর দাম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আলু যখন উঠানোর সময় হয় তখন আমরা দাম পায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সেক্ষেত্রে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। এজন্য চাষকে লাভজনক করে তুলতে আলুর দাম বৃদ্ধি করার দাবি জানান তারা।

প্রথমবারের মতো এলো ২৪ জিবি র‌্যামের স্মার্টফোন

শেরপুর উপজেলার কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, কৃষি বিভাগের একান্ত প্রচেষ্টায় এবছর আলুর ক্ষেতকে রোগ বালাইমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। উপজেলার কোথাও আলুর ফলন বিপর্যয় হয়নি। আশা করা যাচ্ছে সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে আলুর বাম্পার ফলন হবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.