বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয় প্রায় ২৯ গুণ বাড়লেও নগরবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব আগের মতোই রয়ে গেছে, বরং কোথাও কোথাও আরও বেড়েছে।

নগরবাসীর দাবি, মাঠপর্যায়ে মশক নিধনের কার্যকর কোনো কার্যক্রম চোখে না পড়লেও কাগজে-কলমে ব্যয়ের অঙ্ক কয়েকগুণ বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে এ খাতে ব্যয় ছিল মাত্র ২১ লাখ টাকার কিছু বেশি, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় কোটি টাকার বেশি।
বরিশাল নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাবাজ এলাকার বাসিন্দারা জানান, এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম দেখা যায় না। এমনকি ফগার মেশিনের ব্যবহার সম্পর্কেও তারা অবগত নন। তাদের অভিযোগ, মশার যন্ত্রণায় দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে থাকতে হয় এবং সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিসিসির বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশা নিধনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে ফগার মেশিন কেনাতেই উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়িয়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফগার মেশিনের কার্যকর ব্যবহার না থাকলেও হাতে বহনযোগ্য স্প্রে মেশিন দিয়ে নামমাত্র কাজ করা হয়। এতে মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, মশার উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গরম ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তারা নিয়মিত ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও মশক নিধনে ব্যয়ের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মকর্তারা জানান, ব্যয়ের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং প্রকৃত বাস্তবতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মশক নিধনে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু ও মশার উপদ্রব মোকাবিলায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে নাগরিকদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতিতে তার প্রভাব খুবই সীমিত।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, কাগজে-কলমে ব্যয় বাড়ানোর বদলে বাস্তবিক ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে তারা স্বস্তির পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


