দেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা বর্তমানে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, এই উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের সামগ্রিক চাহিদা অনুযায়ী বড় ধরনের লোডশেডিং নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালের অতিরিক্ত চাহিদার সময় জ্বালানি সংকটের কারণে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। এছাড়া সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকার সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ‘বিশেষ বিধান’ আইনের অপব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দিয়ে বিপুল অর্থ অপচয় ও অনিয়মের পথ তৈরি হয়েছিল।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই আইনের আওতায় গঠিত কমিটির মাধ্যমে অযৌক্তিক ট্যারিফ ও ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করে বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত দায়মুক্তি আইন বাতিল করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন আইন সংসদে পাস হয়েছে ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। ফলে এখন থেকে অনিয়মের সুযোগ কমে এসেছে।
এছাড়া কুইক রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ লোপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


