মানুষের সৃজনশীলতা কেবল আরামদায়ক পরিবেশেই বিকশিত হয়—এমন দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীদের মতে, বরফযুগের কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল, আর সেই চাপ থেকেই উন্নত হাতিয়ার তৈরির দক্ষতা গড়ে ওঠে।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর আগের একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে পাওয়া গেছে এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম, যা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
গবেষকদের মতে, এসব সরঞ্জাম উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে ধারণা করা হয় ভালো পরিবেশেই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে টিকে থাকার নতুন পথ শিখিয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হতো। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন আকারের এসব সরঞ্জাম দেখে বোঝা যায়, নির্মাতারা পাথর ভাঙার সঠিক কৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রযুক্তির ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল এবং আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে বোঝা যায়, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনা কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, লিংজিং এলাকায় ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে এক বিলুপ্ত মানবপ্রজাতি বসবাস করত। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এই স্থানটি আগের ধারণার চেয়েও প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি কোনো উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়কার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



