রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাণ্ডব চালিয়ে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মনোয়ার হোসেন অপু (৩৯) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় দরজা ভাঙচুর ও ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করার ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক-এফের একটি ছয়তলা বাসার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রীকে মারধর ও অশান্তি করতেন। ঘটনার রাতে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় এসে গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং মুখে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে ধারালো দা (চাপাতি) এনে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রাণ ভয়ে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার সময় বাসার ভেতরে ভাঙচুরের বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলতে বললেও প্রথমে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভাঙার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত দরজা খুলে দেন। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী ও শিশুদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়; না হলে বড় ধরনের অপরাধ ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন ভবনের বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে ভাটারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে তার স্বামী নেশা করে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন এবং ঘটনার সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান।
ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ভবনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ধরনের সহিংস আচরণ নতুন নয়। এর আগে একদিন মনোয়ার হোসেন অপু পাঁচতলার এক ফ্ল্যাট মালিককে মারতে উদ্যত হন। অন্য আরেকদিন বাসার দারোয়ানকে বটি দিয়ে কোপানোরও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


