গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে। এতে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শারমিন খানম, তাঁর ভাই রসুল মোল্লা এবং বড় দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শারমিন খানমকে দুই হাত ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক বলেন, হত্যার আগে ভুক্তভোগীদের কোনো চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি-না, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের পেটের ভেতরের খাবার, ঘটনাস্থলে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল, রান্না করা সেমাইসহ অন্যান্য আলামত সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সিআইডি ও পিবিআইসহ একধিক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করছে।’
এর আগে শনিবার (৯ মে) সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের মালিকানাধীন একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে জীবিকার তাগিদে সেখানে বসবাস করছিলেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া ঘটনার পর মরদেহের পাশে একটি চিরকুট রেখে যায়, যেখানে সবাইকে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর লেখা স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্রও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


