চারদিকে যখন কোরবানির আনন্দ আর উৎসবের আমেজ, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ভিন্নধর্মী এক মাংসের বাজার। এই বাজারে বিক্রেতা ও ক্রেতা—দুজনই মূলত নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের অনেকেরই কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস এখানে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের পৌর মার্কেট, ফকিরাপুল, টি এ রোড, জেলা পরিষদ মার্কেটসংলগ্ন রেলক্রসিং, রেলস্টেশন, কাউতলী, হাসপাতাল রোড, মহিলা কলেজ গেট ও বি-বাড়িয়া মার্কেট এলাকায় এসব অস্থায়ী বাজার বসে।
দুপুরের পর থেকেই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ বিভিন্ন বাড়ি থেকে পাওয়া মাংস নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেন। কেউ গরু জবাইয়ের কাজ করে পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া মাংস বিক্রি করেন, আবার কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা মাংস এনে বিক্রি করেন।
অন্যদিকে, যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোরবানি দিতে পারেননি কিংবা বাজারদরের মাংস কিনতে অক্ষম, তারাও ভিড় করেন এই বাজারে। তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে অনেক পরিবার ঈদের খাবারের আয়োজন করেন।
শহরের মেড্ডা এলাকার রিপন মিয়া বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। পরিবারের সদস্যরা মিলে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাংস সংগ্রহ করেছি। এবার প্রায় ১২ কেজি মাংস পেয়েছি। এর মধ্যে কিছু নিজেদের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করেছি।”
বিরাসার এলাকার মরম আলী জানান, “কয়েকজন মিলে একটি বাড়িতে গরু জবাইয়ের কাজ করেছি। টাকার পাশাপাশি কিছু মাংসও পেয়েছি। সংসারের প্রয়োজনে সেগুলো বিক্রি করতে এনেছি।”
ফুলবাড়িয়া এলাকার চান্দু মিয়া বলেন, “ঈদের দিন বিভিন্ন বাড়িতে গেলে মাংস পাওয়া যায়। সব মাংস নিজেদের পক্ষে খাওয়া সম্ভব হয় না। তাই কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করি।”
ক্রেতাদের অনেকে জানান, আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে না পারলেও এই বাজার থেকে কম দামে মাংস কিনে পরিবারের জন্য ঈদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকও কম দামে মাংস কিনতে এই বাজারে আসেন। সাধারণ সময়ে যে মাংস অনেক বেশি দামে কিনতে হয়, ঈদের সময় সেটিই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এখানে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



