ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের হাওর এলাকার একটি নালার পাশের ঝোপ থেকে ৬০ বছর বয়সী মো. আবু ছায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি চারুহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল মালেকের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৩ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি আবু ছায়েদ। পরদিনও তার কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে স্বজনদের মধ্যে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েকজন হাওরের একটি ঝোপে অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে আবু ছায়েদের সামাজিক অবস্থান। পরিবারের দাবি, তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং বিশেষ করে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতেন। এ কারণে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে মাদকসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আবু ছায়েদের ছোট ভাই লাল মিয়ার সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হয়ে আবু ছায়েদ নিহত হতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তানভীর নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভুইয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। হাওরের নির্জন ঝোপে উদ্ধার হওয়া এই মরদেহ ঘিরে এখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



