সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে নিজেদের অনুসারী না হওয়ায় তিন কর্মীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সভাপতি সুজন মিয়া ও ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নালী ইউনিয়নের কলতা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মাশাইল গ্রামের বাধন (১৮), রাফি (১৮) ও সিয়াম মোল্লা (২৮)। আহত তিনজন ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী।
এ ঘটনায় আহত বাধনের বাবা বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- সুজন মিয়া (২৮), রফিক মিয়া (৩৪), শফিক মিয়া (২৮), মহসিন মিয়া (২৫), মনিরুল ইসলাম (২৫), নিরব হোসেন (২০) ও ইমন হোসেন (২৫)।
আহত বাধন বলেন, আমি নালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করি। সভাপতি সুজন মিয়া আমাকে জাকির ভাইয়ের সঙ্গে চলতে নিষেধ করে ও তার গ্রুপে যোগ দেয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই চাপ দিচ্ছে। তার কথা না শুনায় আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে রফিক মিয়াসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে মারধর করে। সেসময় আমার বন্ধুরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে।
ইমন মোল্লা নামের আরেক ছাত্রদল কর্মী বলেন, বেশ কিছুদিন যাবৎ সুজন ও রফিক আমাদের হুমকি দিয়ে তাদের সাথে যোগ দিতে বলে। তাদের সাথে যোগ না দিলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। রফিক গতকাল আমাকে থাপ্পর মেরেছে। আমার ভাগ্নেকে পিটিয়ে আহত করেছে। তারা আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। বলেছে টাকা না দিলে তোদেরকে গুম করে ফেলবো।
ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতি সুজন মিয়া ও যুবদল নেতা রফিক মিয়া পরস্পর যোগসাজশে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য এলাকার অনেক ছাত্র-যুবকদের প্রতিনিয়ত চাপ দেয় তারা। তাদের সঙ্গে যোগ না দিলেই বিভিন্ন সময়ে হামলা চালায় এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
নালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, সুজন ও রফিকরা এলাকা চাঁদাবাজি, মাদকসেবনসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আমার কর্মীদের জোরপূর্বক নিজেদের অনুসারী করার চেষ্টা করছে তারা। তাদের ডাকে সাড়া না দেয়ায় আজ আমা তিনজন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে।
মারধর ও হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সুজন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে যুবদল নেতা রফিক মিয়া বলেন, ছোট একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি এখন মোটরসাইকেলে আছি, নেমে আপনাকে কল দিচ্ছি।
বিষয়টি নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ বলেন, ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে কোন ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ নেই। কেউ আইনবিরোধী কাজ করে থাকলে এবং উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি লাইন কেটে দেয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।