মানুষের চোখ এবং মস্তিষ্কের গভীরে থাকা একটি পুচকে আলো-সংবেদনশীল অঙ্গের মধ্যে এক আদিম ও গভীর সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আজ থেকে প্রায় ৬০ কোটি বছর আগে এই দুটি অঙ্গ একই উৎস থেকে তৈরি হয়েছিল।

চোখ

Advertisement

বিজ্ঞানবিষয়ক খ্যাতনামা সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে মানুষের মাথার ভেতরে থাকা ‘পিনিয়াল গ্রন্থি’ (Pineal Gland) নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মটরদানার মতো ছোট্ট এই অঙ্গটি খুলির একদম ভেতরে লুকিয়ে থাকে। বাইরে থেকে সরাসরি কোনো সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছায় না, তবুও এটি আমাদের শরীরকে আলো ও অন্ধকারের তফাত বোঝাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটি শরীর থেকে ‘মেলাটোনিন’ নামের হরমোন নিঃসৃত করে, যা মানুষের ঘুম ও জেগে থাকার চক্র (Bio-clock) নিয়ন্ত্রণ করে।

‘ত্রি-কর্নিয়া তত্ত্ব’ ও প্রাচীন সমুদ্রের প্রাণীরা
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় ‘ত্রি-কর্নিয়া তত্ত্ব’ নামে নতুন একটি ধারণা সামনে এনেছেন। তাদের মতে, মানুষের চোখের রেটিনা এবং পিনিয়াল গ্রন্থি মূলত একই আলো-সংবেদনশীল অঙ্গ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গবেষকেরা প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে সমুদ্রে বাস করা কিছু ক্ষুদ্র প্রাণীর জীবাশ্ম ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা:

প্রাচীন সেই প্রাণীদের মাথার দুই পাশে দুটি চোখ ছিল।

পাশাপাশি, মাথার ঠিক ওপরে আরও একটি বিশেষ আলো-সংবেদনশীল অঙ্গ ছিল। এটি তাদের আলো বুঝতে এবং পানির নিচে শরীরের ভারসাম্য বা অবস্থান ঠিক রাখতে সাহায্য করত।

মাটির নিচে জীবন ও বিবর্তনের খেলা
গবেষণায় বলা হয়েছে, কালের বিবর্তনে এই প্রাণীদের কিছু দল যখন মাটির নিচে বসবাস শুরু করে, তখন তাদের পাশের চোখ দুটির ব্যবহার কমে যায়। ফলে তারা মূলত মাথার ওপরের ওই আলো-সংবেদনশীল অঙ্গটির ওপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করে।

সময়ের সাথে সাথে সেই অঙ্গটির একটি অংশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাথার দুই পাশে সরে যায় এবং ধীরে ধীরে আজকের ‘রেটিনায়’ রূপ নেয়। আর মূল অংশটি মাথার ভেতরেই থেকে যায়, যা আজ মানুষের ‘পিনিয়াল গ্রন্থি’ নামে পরিচিত।

প্রকৃতির জীবন্ত প্রমাণ: টুয়াটারা
গবেষকেরা জানান, বিবর্তনের এই ইতিহাসের একটি চমৎকার জীবন্ত প্রমাণ এখনো পৃথিবীতে টিকে আছে। নিউজিল্যান্ডের ‘টুয়াটারা’ নামের একটি প্রাচীন সরীসৃপজাতীয় প্রাণীর মাথার ওপরে এখনো এমন আলো-সংবেদনশীল অঙ্গ বা ‘তৃতীয় চোখ’ দেখা যায়। এটি দিয়ে তারা আমাদের মতো স্পষ্ট দেখতে না পেলেও, আলো-অন্ধকারের খেলা ঠিকই বুঝতে পারে। আর এই আলো-আঁধারির অনুভূতিই তাদের শরীরের ভেতরের সময়ের চক্র বা জৈবিক ঘড়ি সচল রাখতে সাহায্য করে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.