‘বিষয়বস্তু নির্মাতা’ পরিচয়ে মোবাইল বা চিত্রধারণ যন্ত্র ব্যবহার করে কারও অনুমতি ছাড়া দৃশ্য ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে এ প্রশ্নটি করেন রফিকুল ইসলাম হিলালী।
লিখিত প্রশ্নে তিনি জানতে চান, ‘বিষয়বস্তু নির্মাতা’ পরিচয়ে অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মানুষের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষণীয় শিরোনামে প্রচার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে—সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
জবাবে মন্ত্রী জানান, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইল, হুমকি, প্রতিশোধমূলক অশ্লীল প্রকাশ বা ক্ষতিকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দশ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা বিশ লাখ টাকা জরিমানা করা যেতে পারে। আর জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২০ ম্যানেজার নিয়োগ দেবে জেন্টল পার্ক, বেতন ৪৫ হাজার টাকা
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ক্ষতিকর বিষয়বস্তু অপসারণ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। পাশাপাশি সাইবার জরুরি সাড়া দল ও নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্র তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়বস্তু শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবে।
মন্ত্রী জানান, এসব অপরাধের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ভিডিও বা বিষয়বস্তুর উৎস এবং অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


