রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে দাম স্থির থাকলেও ডিলার ও সরবরাহকারীরা কৌশলে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত ভোজ্যতেল মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই এবং দাম বাড়ানো হবে না।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ক্রেতাদের কাছে খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কিছু দোকানে এই তেল পাওয়া যায়নি। বিক্রেতারা জানান, তেলের সরবরাহ গত কয়েকদিন ধরে কমে গেছে। একদিকে তেল কোম্পানিগুলি কম সরবরাহ করছে, অন্যদিকে কিছু ক্রেতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরের কারণে আতঙ্কিত হয়ে বেশি পরিমাণ তেল কিনছেন। এতে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের বেশির ভাগ দোকানে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও এক ও দুই লিটার বোতলের সরবরাহ সীমিত। মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, “কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম আসায় ডিলাররা কম পরিমাণে তেল দেন। দাম বাড়েনি, কিন্তু গায়ের দামে তেল কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমেছে।”
ভোক্তা আরিফা বেগম বলেন, “দুই লিটারের বোতল কিনতে গিয়ে কোনো দোকানে পাইনি। বাধ্য হয়ে পাঁচ লিটারের বোতল কিনেছি। সরকার বলছে কোনো সংকট নেই, কিন্তু বাজারে তা দেখতে পাচ্ছি না।”
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাম্প্রতিক সংকট মূলত ভোক্তাদের অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে। দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, দাম বাড়বে না। কেউ আতঙ্কিত হয়ে অযথা তেল কিনবেন না। তিনি জানান, বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও তদারকির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
গত কয়েক দিনে বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম বেড়ে যায়নি। তবে ডিলার পর্যায়ে কিছুটা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও সাময়িকভাবে বেড়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং দামও বাড়বে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


