দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও দক্ষতা, ব্যবহার পদ্ধতি ও সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি—এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক জরিপে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহরে যেখানে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে গ্রামে এ হার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ—যা ডিজিটাল বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ব্যবহারকারীদের দক্ষতার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। অধিকাংশই এখনো মৌলিক কাজেই সীমাবদ্ধ; যেমন ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন। কিন্তু উন্নত ডিজিটাল দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।
মোবাইল ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় কিছু ঘাটতি রয়েছে। ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার খুবই কম—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারে ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে, যা আঞ্চলিক বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সরকারি চাকরির তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী।
ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতার দিক থেকে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিকার নিতে সক্ষম হলেও ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে প্রধান হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া উচ্চমূল্যও বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামনে এসেছে। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের খরচ বেশি হওয়ায় তারা এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন।
সব মিলিয়ে জরিপে স্পষ্ট হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও দক্ষতা বৃদ্ধি, সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে দেশের ডিজিটা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


