আজকের দিনে ইয়ারবাড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে—যাত্রা, জিম, ঘুমের আগে গান বা পডকাস্ট শোনা থেকে শুরু করে দরকারী কথাবার্তা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার কানের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড কানের ভেতরে বসে সরাসরি কানের পর্দায় শব্দ পাঠায়। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে শব্দ শোনার ফলে কানের সূক্ষ্ম শ্রবণ কোষ বা হেয়ার সেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। একবার এই কোষগুলো নষ্ট হলে পুনরায় তৈরি হয় না। ফলস্বরূপ, স্থায়ী শ্রবণহ্রাস দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি প্রকাশ পেতে পারে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস), ভিড়ের মধ্যে কথাবার্তা বোঝার অসুবিধা বা শব্দ স্পষ্ট শোনার সমস্যার মাধ্যমে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
শুধু কানের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ইয়ারবাডের দীর্ঘ ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও চাপ ফেলে। একটানা শব্দ শোনার ফলে মস্তিষ্ক সব সময় সজাগ থাকে। এর ফলে মানসিক বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়, যা মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাত্রা বা জনসমাগমে আশপাশের শব্দ ঢাকতে ভলিউম বাড়ালে এই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।
সংক্রমণের ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে রাখে, যা ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে কানে ময়লা জমা, জ্বালা, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বারবার সংক্রমণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ৬০/৬০ নিয়ম
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলতে—একটানা ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা এবং ভলিউম সর্বাধিক ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা। এটি কানের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং টিনিটাস বা স্থায়ী শ্রবণহ্রাসের ঝুঁকি কমায়।
-দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার কানের হেয়ার সেল ক্ষতিগ্রস্ত করে।
-স্থায়ী শ্রবণহ্রাস এবং টিনিটাসের ঝুঁকি তৈরি করে।
-মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।
-৬০/৬০ নিয়ম মেনে ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র : নিউজ ১৮
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


