টানা দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি না হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-ইআরএল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে দেশে নতুন করে অপরিশোধিত তেল পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে ইআরএল-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে বর্তমান সংকট বিবেচনায় পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার টন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে। এর বাইরে মজুদ ট্যাঙ্কের তলানিতে জমে থাকা ডেডস্টক রয়েছে প্রায় ১০,০০০ টন এবং পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৫,০০০ টন। পাইপলাইনের এই তেল বিশেষভাবে পাম্প করে ট্যাঙ্কারে আনতে হবে। যা দিয়ে সপ্তাহ খানেকও চলবে না প্রতিষ্ঠানটি।
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইআরএল যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য গত ১ এপ্রিল একটি কোম্পানিকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তেলবাহী জাহাজটি দেশে পৌঁছাতে পারে।
ইআরএল সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ইআরএল মূলত এরাবিয়ান লাইট ক্রুড ও মারবান ক্রুড পরিশোধন করে। তাই এর বিকল্প খুঁজে পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য সহজ হবেনা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্চ মাসে ২ লাখ টন তেল আসার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে তা পৌঁছায়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


