সাইফুল ইসলাম : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার ব্যক্তিগত একান্ত সহকারী (এপিএস) মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুলের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে অযাচিত নজরদারি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তার এ খবরদারিতে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নিরব ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অফিস, সদর উপজেলা, সাটুরিয়া উপজেলা ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে কেউই প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি; নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গরিব-অসহায়দের জন্য সরকারি বিশেষ বরাদ্দে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন এপিএস মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে তদারকি করছেন। নিজস্ব বলয় তৈরি করতে বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিগত মিটিং করার অভিযোগও রয়েছে মো. আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক তথ্য আদান-প্রদান করতে চাইলে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব সৃষ্টি করছেন এবং নিজস্ব মতামত দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ভিজিএফের চাল বিতরণে নিজস্ব লোকজন ব্যবহার করে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ স্থানেই পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ভিজিএফ, সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন ভাতাভোগীদের তালিকা তৈরিতেও তার হস্তক্ষেপের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত ঈদ উল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রাপ্ত ঈদ শুভেচ্ছা বিতরণের তালিকা তিনি নিজের পছন্দের লোকদের নিয়ে ইচ্ছেমতো তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করেন বলে জানা গেছে।
উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ বাস্তবায়নের সময় তাকে অবগত করতে চাপ প্রয়োগ, কর্মকর্তাদের নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনার চেষ্টা এবং তার নির্দেশনা না মানলে মন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য দিয়ে বদলির চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে দাবি করেন, মন্ত্রী তার কথামতোই পরিচালিত হন।

জানা গেছে, তার মদদে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মসূচিতে কে সভাপতিত্ব করবেন, কে অংশ নেবেন—সেসব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করেন তিনি।
সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তার বদলি তদবির করে করানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বদলির আদেশের কপি বিভিন্ন কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, বিগত সরকারের সময়কার এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সরকারি অনুষ্ঠানে তোলা ছবি দেখিয়ে তার ব্যাখ্যা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এসব কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। একাধিক কর্মকর্তা তার এ অযাচিত হন্তক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে অন্যত্র বদলি হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
একই ধরনের অসন্তোষ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কর্মকর্তারা বলেন, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জেলা-উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন। জেলার উন্নয়নে তার আন্তরিক প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকের মতে, এপিএসের কর্মকাণ্ডে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা অন্য নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এসব বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর এপিএস মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুলের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি সামনাসামনি আসেন, সামনাসামনি কথা বলি।” এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


