নিতান্তই শখের বশে কিংবা অপরিণত বয়সে তৈরি করা ইমেইল অ্যাড্রেস নিয়ে যারা বিব্রত তাদের জন্য নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে গুগল। যাত্রা শুরুর দীর্ঘ দুই দশক পর জিমেইলে অ্যাড্রেস বা ইউজারনেম পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সুন্দর পিচাই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে এই পরিবর্তনের কথা জানান।
পোস্টে সুন্দর পিচাই রসিকতা করে বলেন, ‘২০০৪ সাল চমৎকার একটি বছর ছিল ঠিকই, কিন্তু আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসের সেই অতীতে আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীরা নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে তাদের পছন্দমতো নতুন ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন।
এই ফিচারের বিশেষত্ব কী?
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ইমেইল অ্যাড্রেস পরিবর্তন করলেও আপনার অ্যাকাউন্টের কোনো ছবি, মেসেজ বা ফাইল ডিলিট হবে না। সবকিছু আগের মতোই থাকবে। এক্ষেত্রে শুধু আপনার ইমেইলের ‘@gmail.com’ এর আগের অংশটি বদলে যাবে। অর্থাৎ, আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টের ইউজারনেম অংশটি কেবলমাত্র পরিবর্তন হবে।
গুগলের নতুন এই সিস্টেমে আপনার পুরনো ইমেইল অ্যাড্রেসটি পুরোপুরি মুছে যাবে না। এটি একটি ‘বিকল্প’ বা অল্টারনেটিভ অ্যাড্রেস হিসেবে অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকবে। ফলে কেউ যদি আপনার পুরনো ঠিকানায় ইমেইল পাঠায়, তবে সেটিও আপনার বর্তমান ইনবক্সেই আসবে। এমনকি ইউটিউব, গুগল ম্যাপস বা গুগল ড্রাইভে লগ-ইন করার সময় ব্যবহারকারী পুরনো বা নতুন—যেকোনো নাম (ইউজারনেম) ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে জিমেইলের নতুন এই ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রথমত, ব্যবহারকারী বছরে (১২ মাসে) মাত্র একবারই ইমেইল অ্যাড্রেস পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয়ত, একটি জিমেইল অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ তিনবার ইউজারনেম পরিবর্তন করা যাবে, এর বেশি নয়।
তৃতীয়ত, নতুন ইউজারনেম অবশ্যই ইউনিক বা অনন্য হতে হবে। অর্থাৎ, ইউজারনেম এমন হতে হবে যেটা আগে কেউ ব্যবহার করেনি।
তবে ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় তার মূল বা প্রথম জিমেইল অ্যাড্রেসে ফিরে যেতে পারবেন।
যেভাবে পরিবর্তন করবেন ইউজারনেম
আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টে যদি নতুন এই ফিচারটি চালু হয়ে থাকে, তাহলে সহজেই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে ইউজারনেম বা অ্যাড্রেস পরিবর্তন করে নিতে পারেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক ধাপগুলো:
১। প্রথমেই কম্পিউটারে বা স্মার্টফোনে গুগল অ্যাকাউন্ট সেটিংসে যেতে হবে।
২। এরপর সেখানে থাকা ‘পার্সোনাল ইনফো’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
৩। এবারে স্ক্রল করে নিচে নেমে ‘কনটাক্ট ইনফো’ সেকশনে গিয়ে ইমেইল অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
৪। যদি আপনার অ্যাকাউন্টে নতুন ফিচারটি চালু হয়ে থাকে বা সক্রিয় (অ্যাকটিভ) থাকে, তাহলে আপনি ‘চেঞ্জ গুগল অ্যাকাউন্ট ইমেইল’ নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। এবারে এই অপশনটিতে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
৫। জিমেইলে অ্যাড্রেস বা ইউজারনেম পরিবর্তনের এই ধাপে এসে আপনাকে ইউনিক বা অনন্য একটি ইউজারনেম বাছাই করতে হবে। এবারে আপনার পছন্দের নতুন ইউজারনেমটি টাইপ করুন।
৬। সবশেষে পরবর্তী নির্দেশাবলী অনুসরণ করে ‘সেভ’ করুন। এক্ষেত্রে গুগলের পরামর্শ হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া শুরুর আগে ব্যবহারকারীদের উচিৎ গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ নিয়ে রাখা, যাতে করে ডেটা হারানোর ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
৭। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পর ব্যবহারকারী চাইলে নতুন বা পুরাতন- যেকোনো ইউজারনেম বা অ্যাড্রেস ব্যবহার করেই লগ-ইন করতে পারবেন। পাশাপাশি আপনার সকল ইমেইল আগের জায়গাতেই আসবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, আপাতত এই ফিচারটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা (রোল-আউট) করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিমেইল ব্যবহারকারীরাও এই সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন গুগল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


