জুমবাংলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িযার নাসিরনগরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে লিখিত-মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েও নিয়োগ পাননি মো. মঈন উদ্দিন নামে এক যুবক। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। এবার চাকরি পেতে একাই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করেন প্রথম হওয়া এ যুবক।

Protibad

Advertisement

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে তিনি এ মানববন্ধন করেন। ভুক্তভোগী ওই যুবক গত ২ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগ, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জেঠাগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও নাসিরনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবেক মোনাব্বর হোসেন বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পরও কীভাবে তিনি খাতা দেখে পুনরায় মূল্যায়ন করেন এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দিলেন সেটি বোধগম্য নয়। এটি সম্পূর্ণ আইবিরোধী কাজ।

মাঈন উদ্দিন উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুনিয়াউক গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া নিয়োগ বাতিল করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ করেন তিনি।

মাঈন উদ্দিন বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২৩ নম্বর পেয়েও চাকরি হয়নি। অথচ ২২ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থী রুমা আক্তারকে নিয়োগ দিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক।

তিনি বলেন, জেঠাগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু গত ৩০ মে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি, যিনি দ্বিতীয় হয়েছেন তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সব জানেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এরপর প্রধান শিক্ষক আমাকে বের করে দেন।
তিনি আরও বলেন, জেঠাগ্রামের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় কোন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে সেসব সম্ভাব্য প্রশ্ন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থী রুমা আক্তারকে পরীক্ষার আগেই দিয়েছেন। এমনকি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মোটা অংকের বিনিময়ে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থী রুমাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

জেঠাগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ১২ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৯ জন অংশ নেন। গত ১ মে বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে নাসিরনগর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোনাব্বর হোসেন (বর্তমানে জেলা সদরে একই পদে পদায়ন), শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও নাসিরনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মো. আওলাদ উপস্থিত ছিলেন। ওই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী মো. মঈন উদ্দিন ৩০ নম্বরের মধ্যে ২৩ নম্বর পেয়ে প্রথম হন। পরীক্ষার এ ফল নিয়োগ বোর্ডের সব সদস্যের উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করে চাকরিপ্রত্যাশীদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন বলেন, যিনি লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন, আমি তার খাতা দেখেছি। প্রকৃতপক্ষে সে প্রথম হওয়ার যোগ্য না। তাই দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থী অধিক যোগ্য মনে হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষা শেষে খাতা দেখার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর পর তার সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জেঠাগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আওলাদ মিয়া জানান, নিয়োগের বিষয়ে সবকিছু বিদ্যালয়ের সভাপতি জানেন।

নিয়োগ বোর্ডের সবাই স্বাক্ষর করার পর কীভাবে সভাপতি খাতা দেখল জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

নাসিরনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক বলেন, নিয়োগ বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর পুনরায় খাতা দেখা ও প্রথম হওয়া ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে সেটি বিধিসম্মত হয়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নিয়োগ বোর্ডে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেকেই ছিলেন। আমরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যিনি মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন তাকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেছি। এরপরও দ্বিতীয় স্থান হওয়া ব্যক্তিকে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হলো? এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম হওয়া ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রথম স্থান অধিকারীকে রেখে দ্বিতীয় স্থান হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়োগ বিধির পরিপন্থী। ভুক্তভোগীকে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.