রাতের আকাশে চোখ রাখলে বেশিরভাগ সময় ঝিলমিল করা তারাগুলোই আমাদের সঙ্গী হয়। তবে কখনো কখনো আকাশে হাজির হয় এক ব্যতিক্রমী অতিথি, যা সাধারণ দৃশ্যকে বদলে দেয়। এমনই এক মহাজাগতিক অতিথি হলো সদ্য আবিষ্কৃত ধূমকেতু সি/২০২৪ ই১ (ভিয়ারজোস), যা ধীরে ধীরে পৃথিবীর আকাশের দিকে এগিয়ে আসছে।

ধূমকেতু

Advertisement

এই ধূমকেতুটির সন্ধান পাওয়া যায় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, নিয়মিত আকাশ পর্যবেক্ষণের সময়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এসেছে সৌরজগতের একেবারে প্রান্তবর্তী অঞ্চল ওর্ট মেঘ থেকে—বরফে পূর্ণ এক বিশাল মহাকাশীয় ভাণ্ডার, যেখানে অসংখ্য ধূমকেতুর জন্ম। সূর্যের দিকে যাত্রা করতে করতে ধূমকেতুটি এখন তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে।

সূর্যের তাপে ধূমকেতুটির ভেতরের বরফ গলতে শুরু করলে গ্যাস ও ধুলা বেরিয়ে আসে, যার ফলে তৈরি হয় এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উজ্জ্বল লেজ। এই লেজই ধূমকেতুকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুর থেকে আলাদা করে চেনায়। শক্তিশালী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে ধূমকেতুটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এর আলোতে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ধূমকেতুটি গঠনের সময় এই উপাদান কম ছিল, অথবা দীর্ঘ যাত্রাপথে তা অনেকটাই ক্ষয় হয়ে গেছে।

ইতোমধ্যেই দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধূমকেতুটির ছবি তোলা হয়েছে। পরিষ্কার আকাশ ও আলোকদূষণ কম থাকলে সেখানে এটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতেও শিগগিরই ধূমকেতুটি দেখার সুযোগ বাড়বে—বিশেষ করে ১৭ ফেব্রুয়ারির পর, যখন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে যাবে।

বাংলাদেশের আকাশ থেকে ধূমকেতুটি দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবং আশপাশে কৃত্রিম আলোর প্রভাব কম হলে, গভীর রাত বা ভোরের দিকে দূরবীন দিয়ে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা যেতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতিতে কোথাও কোথাও খালি চোখেও হালকা আলোর আভাস দেখা যেতে পারে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.