অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন সহবাসের পর ফরজ গোসল করার ব্যাপারে শরিয়তের নির্দেশনা কী? এছাড়াও সহবাসের কতক্ষণ পর গোসল করা বাধ্যতামূলক এবং দেরি করার বিধান কী—এ বিষয়ে সঠিক নিয়ম জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই।

এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান তুলে ধরেছেন ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি শাব্বীর আহমদ।
মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেন, ইসলামি শরিয়তে সহবাসের পর গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যেমন- এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম হলো, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া ফরজ।
নবী করিম (সা.) এবং সালফে সালেহিনের আমল অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নেওয়াটাই সুন্নাহ এবং সর্বোত্তম।
গোসল করতে দেরি হওয়ার অজুহাতে নামাজ কাজা করেন অনেকেই। ফরজ গোসল কখনোই নামাজ কাজা করার বৈধ কারণ হতে পারে না। যদি প্রচণ্ড শীত বা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার অসম্ভব হয়, তবে তায়াম্মুম করে হলেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ কাজা করা কবিরা গুনাহ।
গোসল ফরজ হয় যেসব কারণে
নিচের কারণগুলোতে গোসল করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ হয়ে যায়:
১. সহবাস: স্বামী-স্ত্রীর মিলনে বীর্যপাত হোক বা না হোক, উভয়ের ওপর গোসল ফরজ। (বুখারি ও মুসলিম)।
২. স্বপ্নদোষ: ঘুমের ঘোরে উত্তেজনা অনুভব হোক বা না হোক, যদি পোশাকে নাপাকির চিহ্ন পাওয়া যায়।
৩. বীর্যপাত: জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্য বের হলে।
৪. মাসিক (হায়েজ) : মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর।
৫. নিফাস: সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব বন্ধ হলে।
৬. ইসলাম গ্রহণ: কোনো অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে গোসল করা বাধ্যতামূলক।
৭. মৃত্যু: কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল দেওয়া জীবিতদের ওপর দায়িত্ব।
ফরজ গোসল না করে কি প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়?
অনেকে মনে করেন, গোসল ফরজ হলে ঘরের কাজ করা যাবে না—এটি একটি ভুল ধারণা। এ বিষয়ে হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত (গোসল ফরজ) অবস্থায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নবীজি (সা.) তাকে দেখে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো (সত্তা হিসেবে) নাপাক হয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৯)
গোসল করতে দেরি হলে ঘুমানোর বা পানাহারের আগে হাত-মুখ ধুয়ে নামাজের মতো অজু করে নেওয়া সুন্নত।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাবাত অবস্থায় ঘুমানোর বা খাওয়ার আগে অজু করে নিতেন। (সহিহ মুসলিম: ৩০৫)
এছাড়া নারীদের ঋতুস্রাব বা সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় রান্নাবান্না বা ঘরের কাজ করা যাবে না—এমন বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
অপবিত্র অবস্থায় যেসব কাজ করা নিষেধ
গোসল ফরজ হওয়ার পর পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা শরিয়তে নিষিদ্ধ:
১. নামাজ আদায় করা।
২. পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা অথবা তিলাওয়াত করা।
৩. কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।
৪. মসজিদে প্রবেশ করা বা অবস্থান করা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


