গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শরীর ও মন স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ও খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই অনেকে ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয় বা প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে আখের রস পান করে থাকেন। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে আখের রস খুব জনপ্রিয় একটি পানীয়।

আখকে সাধারণত একটি পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক ফসল হিসেবে ধরা হয়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ইলেকট্রোলাইট, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মানুষের জন্য আখের রস সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
আখের রসে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে, যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্যও এটি উপযুক্ত নয়, কারণ এতে উচ্চ ক্যালোরি থাকে যা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বাড়াতে পারে।
হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আখের রস অতিরিক্ত গ্রহণ করলে সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ এতে থাকা চিনি ও ক্যালোরি শরীরের বিপাকক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করে।
এছাড়া রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া আখের রস অনেক সময় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হয় না। নোংরা যন্ত্রপাতি, অপরিষ্কার পানি বা অপরিশোধিত বরফের ব্যবহার থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
আখের রসে থাকা অতিরিক্ত চিনি দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা এবং মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই এটি পান করার পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, আখের রস শরীরের জন্য উপকারী হলেও তা পরিমিত ও সতর্কভাবে গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


