ঈদের আনন্দের অন্যতম অংশ হলো কোরবানির মাংস কাটাকাটি, যা অনেক সময় পারিবারিক উৎসবের আমেজ তৈরি করে। সবাই মিলে কাজ করলে পরিবেশ আনন্দময় হয়ে ওঠে। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেই সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রতি বছর ঈদের সময় কাটা-ছেঁড়া ও আঘাতজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা সাধারণ কিছু ভুলের ফলেই ঘটে, যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ।

ভোঁতা ছুরি: সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
অনেকে মনে করেন ধারালো ছুরি বেশি বিপজ্জনক, তবে বাস্তবে ভোঁতা ছুরি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়, ফলে হাত পিছলে গিয়ে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ধারালো ছুরি কম চাপে সহজে কাজ করে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ভুল দিক থেকে কাটার অভ্যাস
অনেকেই ছুরি নিজের দিকে টেনে কাটার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সব সময় ছুরি শরীরের বিপরীত দিকে চালানো উচিত। তাড়াহুড়া করে বড় টুকরো কাটার চেষ্টা করাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
পিচ্ছিল মাংস সামলানো
কাঁচা মাংস সহজেই হাত থেকে পিছলে যেতে পারে। তাই মাংস কাটার জন্য শক্ত চপিং বোর্ড ব্যবহার করা উচিত। বোর্ডের নিচে ভেজা কাপড় বা রাবার রাখলে সেটি স্থির থাকে। মাংস ধরার সময় আঙুল ভাঁজ করে “ক্ল গ্রিপ” ব্যবহার করলে আঙুল সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি কাঁচা মাংস ও সবজির জন্য আলাদা বোর্ড ব্যবহার করা উচিত, না হলে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মনোযোগ হারানোই বড় বিপদ
মাংস কাটার সময় সামান্য মনোযোগ বিচ্যুতিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ সময় ফোন ব্যবহার, কথা বলা বা অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কেটে গেলে করণীয়
ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, কেটে গেলে প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে ৫–১০ মিনিট চাপ দিয়ে রাখতে হবে। বারবার দেখে চাপ সরানো যাবে না। রক্ত বন্ধ হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে। তবে ক্ষত গভীর হলে, রক্ত বন্ধ না হলে অথবা হাড় বা রগ দেখা গেলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। দেরি করলে জটিলতা বাড়তে পারে।
ঈদের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় বিষাদে রূপ না নেয়, সে জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। যাদের মাংস কাটার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ। সচেতন থাকলেই ঈদের আনন্দ নিরাপদ ও সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



