গ্রীষ্মকাল শুরু হতেই ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) টানা ব্যবহার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লাইট, কম্পিউটার, ফ্রিজ, টেলিভিশন-সহ অন্যান্য ডিভাইসের ব্যবহার তো রয়েছেই। যা স্পর্শ না করলেও হয় না। মূলত গ্রীষ্মে এসব ইলেকট্রিক ডিভাইস ছাড়া চলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সমস্যা বিদ্যুৎ বিলে।

মাস শেষে যখন বিদ্যুৎ বিলের কাগজ কিংবা নোটিফিকেশন আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চোখ কপালে উঠে। প্রতি মাসেই নানা কারণে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ করে থাকেন অনেকে। অভিযোগকারীদের অধিকাংশই বুঝতে পারেন না, বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে কেন। তবে ইলেকট্রিক ডিভাইসগুলো গরমের সময় তুলনামূলক বেশি ব্যবহার হয় এবং এ কারণে বিলও বেশি আসে।
এছাড়াও অন্যান্য কিছু কারণে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল বেশি এসে থাকে। মাত্র কয়েকটি সহজ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব হয়। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের কয়েকটি কার্যকরী উপায় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। তাহলে প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার উপায়গুলো জেনে নেয়া যাক-
বুদ্ধিমানের সঙ্গে এসি ব্যববার:
বাসা-বাড়িতে যদি এসি ব্যবহার করেন, তাহলে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবর্তে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন। এসির তাপমাত্রা মাত্র এক ডিগ্রি বাড়ানো হলে প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে এসির তাপমাত্রা বাড়িয়ে সঙ্গে ফ্যান ব্যবহার করা হলে মাঝারি তাপমাত্রায়ও ঘর ঠান্ডা রাখা যায়। এতে এসির ওপর চাপ কমে।
এসির সঙ্গে ফ্যান চালালে ফ্যান কম গতিতে চললে বাতাস আরও ঠান্ডা হয়। এ উপায়ও অবলম্বন করতে পারেন। পাশাপাশি প্রতি ১৫ দিন পরপর এসির এয়ার ফিল্টার পরিস্কার করতে হবে। নোংরা এয়ার ফিল্টার মোটরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে এসি থেকে বাইরে ঠান্ডা বাতাসে বের হতে বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থাকার উপায়:
এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়। দিনের বেলায় বাসা-বাড়ির রুমের দরজা ও জানালার পর্দা বন্ধ রাখলে ভেতরে তাপ কমে। সকালে ও বিকেলে সরাসরি সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করে, এ সময় পর্দা দিয়ে বন্ধ রাখতে পারেন। আবার ঘর ঠান্ডার বিপরীতে যদি আলো প্রয়োজন হয়, তাহলে পর্দা খোলা রাখতে পারেন। এতে বাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। বিকেলে সূর্যের তাপ কম থাকে এবং অনেক সময় চারপাশে বাতাস থাকে প্রচুর। এ সময় পর্দা খোলা রাখলে বাতাস প্রবেশ করে ঘর ঠান্ডা রাখে। এ ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করলে তাপমাত্রা শীতল থাকবে বেশি।
অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখা:
এমন কিছু জিনিসপত্র রয়েছে, যা সবসময় ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। কিছু ডিভাইস রয়েছে যা রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও বিদ্যুৎ খরচ হতে থাকে। টিভি, ল্যাপটপ চার্জার, মাইক্রোওয়েভ, মোবাইল ফোনের চার্জার, হোম থিয়েটার প্রায়ই স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে। অথচ এই স্ট্যান্ডবাই মোডেও এসব ডিভাইস বিদ্যুৎ খরচ করে। এসব ডিভাইস ব্যবহার শেষ হতেই আনপ্লাগ করে বা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেন।
ফ্রিজের সংযোগে দৃষ্টি:
ফ্রিজের অবস্থান ও ব্যবহারও বিদ্যুৎ খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রিজটি দেয়াল থেকে অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে বসান, যাতে তাপ সঠিকভাবে বের হতে পারে। ফ্রিজকে উইন্টার মোড থেকে সামার মোডে রাখলে গ্রীস্মে বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে। ব্যবহারের ক্ষেত্রে বারবার ফ্রিজ খোলা যাবে না। সরাসরি ভেতরে গরম খাবার রাখা যাবে না। এতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয় ফ্রিজের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়।
এলইডি বাতি ব্যবহার:
প্রচলিত ফিলামেন্ট বাতি ও টিউবলাইট বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। এসবের পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ ব্যাপকহারে কমানো সম্ভব। এলইডি বাতি কম শক্তি ব্যবহার করে উজ্জ্বল আলো দেয়। এসব বাসা-বাড়ির জন্য অধিক শক্তি ও সাশ্রয়ী বিকল্প।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


