মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথে জাহাজ চলাচল এখনো অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারে ওঠা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলরত কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আল জাজিরা জানিয়েছে, এই তথ্যটি তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান প্রথমে পথটি উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও কিছু সময় পরই নাবিকদের সতর্ক করে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুট আবারও বন্ধ করা হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। ১৪ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। তেহরানের দাবি, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে নেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরান প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সীমিত করতে শুরু করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে পারবে না। তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা চলমান রয়েছে। কিন্তু এর মাঝেই তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথ বন্ধের চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, আজ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বেতার বার্তা পেয়েছে বলে জানা গেছে। সেই বার্তায় জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আপাতত কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


