হজমজনিত সমস্যা, বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুল বহু বছর ধরে ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাকৃতিক আঁশসমৃদ্ধ এই উপাদানটি এখন অনেকের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে এর উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ভুল ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। ইসবগুল সম্পর্কে এমন কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা নিচে তুলে ধরা হলো—

১. ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়
ইসবগুল, যা সাইলিয়াম হাস্ক নামেও পরিচিত, সম্পূর্ণ উদ্ভিদজাত উপাদান। এটি Plantago ovata গাছের বীজের বাইরের আবরণ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এতে প্রধানত দ্রবণীয় আঁশ থাকে। অনেকে এটিকে কৃত্রিম বা প্রক্রিয়াজাত ভাবলেও বাস্তবে এটি সরাসরি প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসে।
২. ইসবগুল খেলে অভ্যাস হয়ে যায়
অনেকে মনে করেন নিয়মিত ইসবগুল গ্রহণ করলে শরীর সেটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু ইসবগুল কোনো উত্তেজক রেচক নয়। এটি পানি শোষণ করে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে এবং মলের পরিমাণ ও নরমভাব বাড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ সহজ করে। তাই এটি আসক্তি তৈরি করে না।
৩. ইসবগুল পেটে গ্যাস তৈরি করে
হঠাৎ করে অতিরিক্ত আঁশ গ্রহণ করলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি শুধু ইসবগুলের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবারেও হতে পারে। ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে এ ধরনের অস্বস্তি কমে যায়।
৪. প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ
কিছু মানুষ ধারণা করেন প্রতিদিন ইসবগুল গ্রহণ ক্ষতিকর। তবে সঠিক মাত্রায় এবং যথেষ্ট পানির সঙ্গে খেলে এটি নিরাপদ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন হয়। অনেকের খাবারে এই পরিমাণ পূরণ না হওয়ায় ইসবগুল সহায়ক হতে পারে।
৫. ইসবগুলের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে
সাধারণভাবে সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ইসবগুল নিরাপদ। তবে এটি শুকনো অবস্থায় খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উত্তম। শুরুতে এক চা-চামচ পরিমাণ নিয়ে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ানো ভালো পদ্ধতি।
সঠিকভাবে গ্রহণ করলে ইসবগুল হজমের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


