বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে ফিরে দেখি চারদিকে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। আমি যেখানেই যাচ্ছি কেবল দাবি আর দাবি। তাহলে এই ১৭ বছরে দেশে হলোটা কি?

স্থানীয় বিএনপি প্রার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নওগাঁসহ এই অঞ্চলে বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার মাধ্যমে বছরে ৩টি ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করেছিলেন। এই জনপদের মানুষের মূল পেশা কৃষি। কৃষকদের ভালো রাখতে পারলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। খাল খনন, বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, নওগাঁয় ধানের পাশাপাশি শাক-সবজি এবং আম উৎপাদন হয়। এসব উৎপাদনে কৃষকদের খরচ যাত কম লাগে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রত্যেক পরিবারের মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহযোগিতার প্রদান করা হবে। কৃষকদের কৃষি কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিনামূল্যে সার বীজ কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। এছাড়াও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নওগাঁয় রেললাইন করা হবে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে। জনগণ যাদের পাশে আছে তাদেরকে কেউ আটকাতে পারবে না। ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোটের বাক্সগুলো পাহারা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে স্কুল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরী করা হবে যারা দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মুসলিম ধর্মের ইমাম-মোয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নেতাদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করব। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান করতে হবে। গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। ফ্লাইওভার কিছু দালান-কোটা নির্মাণ করা প্রকৃত উন্নয়ন নয়। দেশে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে। আমরা এমন উন্নয়ন করতে চাই না। গ্রামের আপামর মানুষের আকাঙ্খা পূরণ করতে চাই।
নওগাঁ জেলা বিএনপি ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সমন্বয়ে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু।
এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম, জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ গোলাম, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গুলজার হোসেন, নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান মোস্তাক আহম্মেদ রাজা, নওগাঁ শহর বিএনপির সভাপতি ডাক্তার মিজানুর রহমান, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক সামিনা পারভীন পলি, কৃষকদলের সদস্য সচিব এটিএম ফিরোজ দুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আযম টুটুল, শ্রমিক দলের সভাপতি জিল্লুর রহমান, নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান নওগাঁ জেলার ৬টি এবং জয়পুরহাট জেলার ২টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে সকল প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এর আগে জনসভায় যোগদানের জন্য সকাল থেকেই জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসতে থাকেন। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে নওগাঁ শহরের প্রবেশ পথগুলো বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, সরকারি কলেজের মোড়, গোস্তহাটির মোড়, তাজের মোড়, বিজিবি ক্যাম্প মোড় থেকে হেঁটে জনসভাস্থলে আসতে থাকে। সকলের গন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে জনসভাস্থল নওগাঁ এটিএম মাঠ। নওগাঁ জেলার নেতাকর্মীরা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা, নাটোর জেলা ও বগুড়ার পশ্চিম অংশ আদমদিঘী ও দুপচাচিয়া উপজেলা থেকেও হাজার হাজার নেতাকর্মী এই জনসভায় যোগদান করেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


