কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট বা কোলাজেন-ভিত্তিক প্রসাধনী কিছুটা ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী বলেন, এতে ত্বক কিছুটা মসৃণ বা ভরাট মনে হয়। এর বাইরে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট কীভাবে কাজ করে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন ভারতীয় চিকিৎসক ডা. চন্দনী জৈন গুপ্তার কাছ থেকে।

আমার এক নারী রোগী, বয়স তিরিশের কোঠায়। তিনি জানতে চাইলেন—বহু বছর ধরে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরও কেন তার চোখের পাশের সূক্ষ্ম রেখা, যাকে ক্রোজ ফিট বলা হয়, কমছে না। তিনি বলেন, মুখে প্রথম সূক্ষ্ম রেখা দেখা দেওয়ার দিন থেকেই তিনি কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া শুরু করেছিলেন। নিয়মিত ত্বকচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ভালো জীবনযাপনের সঙ্গে কোলাজেন নেওয়ায় তার ত্বক কিছুটা ভরাট, আর্দ্র এবং টানটান মনে হচ্ছিল। কিন্তু তবু সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা তাকে বিরক্ত করছিল।
একই রকম অভিজ্ঞতা ছিল ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষের। অ্যান্টি-এজিং উপকারের কথা শুনে তিনি কোলাজেন পাউডার ও ক্রিম ব্যবহার শুরু করেন। শুরুতে তার ত্বক কিছুটা মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ত্বকে বলিরেখা এবং ঢিলে ভাব দেখা দিতে শুরু করে—যা বয়স বৃদ্ধির স্বাভাবিক লক্ষণ।
আসলে কোলাজেন নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা এখানেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার এবং অনেক সময় কোলাজেন পণ্য তৈরি করা কোম্পানির অর্থায়নে হওয়া গবেষণা এই ধারণাকে আরও জোরালো করে। কোলাজেন ত্বকের চেহারা কিছুটা উন্নত করতে পারে, কিন্তু এটি এমন কোনো জাদুকরী উপাদান নয় যা বার্ধক্যের লক্ষণ থামিয়ে দিতে বা উল্টে দিতে পারে।
কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট বা পণ্য শরীরে বয়সজনিত জৈবিক প্রক্রিয়া—যেমন কোষের ক্ষতি, হরমোনের ওঠানামা, পরিবেশগত প্রভাব বা জিনগত কারণ—বন্ধ করতে পারে না।
বয়সের সঙ্গে কোলাজেন কমে কেন
মানবদেহ নিজেই কোলাজেন তৈরি করে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন, যা ত্বককে দৃঢ়, মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক রাখে। সাধারণত মানুষের বয়স বিশের মাঝামাঝি কোঠায় পৌঁছানোর পর থেকেই শরীরে কোলাজেন উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা ও ত্বক ঝুলে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শরীরে এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা কোলাজেন তন্তুকে শক্ত ও ভঙ্গুর করে তোলে। আবার হরমোনগত পরিবর্তন—বিশেষ করে মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া—এ ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।
কোলাজেন সরাসরি বলিরেখায় কাজ করে না
অনেকে মনে করেন কোলাজেন খেলে তা সরাসরি ত্বকে গিয়ে বলিরেখা কমায়। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
কোলাজেন শরীরে প্রবেশ করার পর অন্যান্য প্রোটিনের মতোই ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। এরপর এই অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের সাধারণ অ্যামিনো অ্যাসিড ভাণ্ডারে মিশে যায়। সেখান থেকে শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করে—যা সব সময় ত্বক নাও হতে পারে।
বয়স বাড়ার পেছনে আরও অনেক কারণ
মানুষের বয়স কীভাবে দৃশ্যমান হবে তা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন— সূর্যের আলোতে কতটা সময় কাটানো হয়। খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপের মাত্রা, ঘুমের ধরন এবং সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্য।
কোলাজেন ত্বকের মান বজায় রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে, তবে এই সব বিষয় ঠিক না থাকলে এর কার্যকারিতা সীমিতই থাকে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বলিরেখা নিয়ন্ত্রণে কী করা যেতে পারে
ত্বকের কোলাজেন ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কোলাজেন ভেঙে দেয়, তাই সানস্ক্রিন ত্বক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া টপিক্যাল রেটিনয়েড ত্বকে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়া উদ্দীপিত করতে পারে এবং কোলাজেন নষ্টকারী এনজাইমকে দমন করতে সাহায্য করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার এবং চিনি কম খাওয়াও ত্বকের গঠন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


