নতুন বছর এলেও অনেকের ব্যাংক ব্যালান্স আগের মতোই টানাপোড়েনের মধ্যেই থাকে। সবকিছুর দাম বাড়তে থাকায় মাসের শেষ দিকে এসে অনেকেই আর্থিক চাপের মুখে পড়েন। কিছু টাকা সঞ্চয় করার চেষ্টা থাকলেও তা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে না। আবার দেখা যায়, কেউ কেউ কিছুটা খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন—যেমন প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া বা নতুন পোশাক কেনা থেকে বিরত থাকা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয় মানে জীবনের সব আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়। ইন্টুইট ক্রেডিট কার্মার কনজ্যুমার ক্রেডিট উপদেষ্টা কোর্টনি অ্যালেভ বলেন, সঞ্চয়ের সময় আনন্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ কৌশল ও অভ্যাস গড়ে তুললেই চাপ ছাড়াই স্মার্টভাবে সঞ্চয় করা সম্ভব। নরওয়ের লাইফস্টাইল বিষয়ক একটি গবেষণা ও পরামর্শমূলক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অনুসরণ করলে সহজেই অর্থ সঞ্চয় করা যায়।
১. খরচ কমানোর বদলে সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
অনেকেই সঞ্চয় শুরু করার সময় কঠোর নিয়ম আরোপ করেন—যেমন বাইরে খাওয়া বন্ধ করা বা নতুন পোশাক না কেনা। কিন্তু এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা ভালো। যেমন, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখা। এতে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয় এবং মানসিক চাপও কম থাকে।
২. সঞ্চয়কে নিয়মিত বিল হিসেবে বিবেচনা করুন
যেভাবে বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হয়, সেভাবেই সঞ্চয়কেও একটি বাধ্যতামূলক ব্যয় হিসেবে ধরা উচিত। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করলে খরচের আগে সঞ্চয় নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে এই অর্থ উচ্চ সুদযুক্ত সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রাখা উচিত, যাতে ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি পায়।
৩. কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড সুবিধা ব্যবহার করুন
দৈনন্দিন কেনাকাটা, অনলাইন শপিং বা বিল পরিশোধের সময় অনেক প্ল্যাটফর্মে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড সুবিধা পাওয়া যায়। নিয়মিত এসব সুবিধা ব্যবহার করলে অল্প অল্প করে হলেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সঞ্চিত হয়। এই ক্যাশব্যাক আলাদা করে রাখলে সময়ের সঙ্গে তা বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয় মানে বড় আয় বা কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই সীমিত আয়ের মধ্যেও নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


