দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন পরিবেশে কোরবানির মাংস সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ মানুষ। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেকেই মাংস দীর্ঘ সময়ের জন্য ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করছেন। তবে ঝড়-বৃষ্টি ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—ফ্রিজে রাখা মাংস ঠিকভাবে জমছে কি না এবং বিদ্যুৎ না থাকলে তা কতক্ষণ নিরাপদ থাকবে।

বিশেষজ্ঞ ও রেফ্রিজারেটর প্রযুক্তিবিদদের মতে, ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংস সম্পূর্ণভাবে জমাট বাঁধতে সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এই সময় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
ফ্রিজে একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণ মাংস গাদাগাদি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে মাংস জমতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে, ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে পাতলা স্তরে মাংস সংরক্ষণ করলে তা দ্রুত জমে যায়।
ফ্রিজের তাপমাত্রাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। থার্মোস্ট্যাট সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বা ‘সুপার কুল’ মোডে রাখলে মাংস দ্রুত জমাট বাঁধে।
লোডশেডিংয়ের সময় করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা উচিত নয়। একটি ভালো মানের ডিপ ফ্রিজ বিদ্যুৎ না থাকলেও সাধারণত ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেতরের তাপমাত্রা বজায় রেখে খাবার নিরাপদ রাখতে পারে। বারবার দরজা খোলা হলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে গিয়ে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।
মাংস সংরক্ষণের সময় প্যাকেটগুলোর মধ্যে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত, যাতে ঠান্ডা বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং সব অংশ সমানভাবে ঠান্ডা থাকে।
এ ছাড়া আগেই বরফ তৈরি করে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে পানিভর্তি বোতল ফ্রিজে জমিয়ে রাখা যেতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব বরফের বোতল মাংসের পাশে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। এতে মাংসের স্বাদ, গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



