সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকায় কবরস্থান ভরাটের কথা বলে নদীপাড় থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কবরস্থানে সামান্য পরিমাণ মাটি ফেলে অধিকাংশ মাটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কাজে স্থানীয় একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাহিরচর এলাকার মো. ইসরাফিল হোসেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে বারাহিরচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বারাহি নতুন বাজার এলাকায় কয়েকটি দোকানের প্লট ভরাটের কাজ চলছে। বাজারসংলগ্ন কাঁচা রাস্তা দিয়ে একের পর এক মাটিবাহী ট্রলি ও যানবাহন চলাচল করছে। নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভেকু দিয়ে নদীপাড়ের মাটি কেটে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তীরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই অভিযুক্ত ইসরাফিল প্রভাব খাটিয়ে ড্রেজার ও মাটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় তিনি একইভাবে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদীপাড় থেকে এভাবে মাটি কাটার কারণে তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, “কবরস্থান ভরাটের জন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনে নেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন আগে এসিল্যান্ড স্যারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এসে কবরস্থানের জন্য মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। আর মাটি কাটলে এলাকার অনেকেই মাটি চায়, তাই বাইরে কিছু মাটি দিতে হয়।”
তবে কবরস্থানের জন্য মাটি কাটার কোনো লিখিত অনুমতি ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, “রোববার সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে পাশের আটিগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। বারাহিরচর এলাকায় পুনরায় মাটি কাটার খবর পেলে সেখানে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



