মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে নিজের চেহারা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও মেকআপের কোনো নির্দিষ্ট আবিষ্কারকের নাম এখনো জানা যায়নি। কিন্তু মেকআপের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো, যার শুরু ধরা হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার অব্দে প্রাচীন মিশরে। সৌন্দর্য, সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে তখন নারী-পুরুষ উভয়েই মেকআপ ব্যবহার করতেন। ক্লিওপেট্রার কাজলঘেরা চোখ কিংবা সবুজ ম্যালাকাইট আইশ্যাডো ছিল সেই সময়ের রূপসজ্জার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

মেকআপ

Advertisement

মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন, মেকআপ দেবতাদের সন্তুষ্ট করে এবং অশুভ দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে। কোহল দিয়ে ঘনকালো কাজল ও খনিজ উপাদান দিয়ে সবুজ আইশ্যাডো তৈরি। কাজল শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং মরুভূমির তীব্র রোদ থেকে নিজের চোখকে রক্ষা করতে এবং চোখের সংক্রমণ রোধ করতে ব্যবহৃত হতো। আর ত্বক উজ্জ্বল করতে সাদা পাউডার ব্যবহার করা হতো।

সুতরাং নারীর অন্যতম প্রিয় জিনিস হচ্ছে মেকআপ। নিজেকে সুন্দর দেখালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কোন মেকআপ কার জন্য কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদও। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি? নিজেকে আরও সুন্দর করে তুলতে বাইরের কৃত্রিম জিনিসের ব্যবহার কীভাবে শুরু হলো? মেকআপের ইতিহাস আসলে বেশ চমকপ্রদ।

তৎকালীন মিশরে মেকআপ শুধু সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করা হতো না। এটি ছিল সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের প্রতীকও। যদিও মেকআপ তখন প্রায় সবার কাছেই সহজলভ্য ছিল। তবে কে কত দামি পাত্রে প্রসাধনী রাখছেন কিংবা কী ধরনের অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করছেন, সেটাই ধনসম্পদের পরিচয় বহন করত।

মিশরীয়রা আধুনিক অর্থে মেকআপ তৈরি না করলেও তারা এই শিল্পকে নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছিল। ক্লিওপেট্রার বিখ্যাত কাজলঘেরা চোখ কিংবা সবুজ ম্যালাকাইট আইশ্যাডোর কথা আজও ইতিহাসে সাক্ষী। তবে এই সাজ শুধু আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য ছিল না, বরং এর বাস্তব উপকারিতাও ছিল।

চোখের চারপাশে যে ঘনকালো কাজল লাগানো হতো, তা সূর্যের তীব্র আলো থেকে চোখকে রক্ষা করত। এমনকি এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণও ছিল। আর আইলাইনার তখন ছিল একসঙ্গে ফ্যাশন ও চোখের সুরক্ষার উপায়। আর ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল ও তিলের তেল ব্যবহার করা হতো মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়া থেকে নিজের ত্বককে রক্ষা করতে। আধুনিক স্কিন কেয়ারের বহু ধারণাই যেন সেই সময় থেকেই শুরু হয়েছিল।

প্রাচীন মিশরীয়দের লিপস্টিক তৈরি হতো লাল ওখার গুঁড়ো ও চর্বি বা রেজিন মিশিয়ে। আরও উজ্জ্বল লাল রঙ আনতে অনেক সময় কারমাইন বিটল নামক এক ধরনের পোকা গুঁড়ো করেও ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ বাগ-ইনস্পায়ার্ড বিউটি নতুন কোনো ধারণা নয়, তার শিকড় বহু পুরোনো ইতিহাসে লুকিয়ে রয়েছে।

মিশরীয়রা বিশ্বাস করেন, চোখে মেকআপ লাগালে অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আর কাজল নাকি নানা রোগ থেকেও সুরক্ষা দেয়। সেই সঙ্গে সবুজ আইশ্যাডো তৈরি হতো ম্যালাকাইট নামক এক ধরনের তামার মতো খনিজ গুঁড়ো করে। এই রঙকে দেবতা হোরাসের আশীর্বাদের প্রতীক বলে মনে করেন মিশরীয়রা।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

মেকআপের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। ত্বক কোমল ও সুস্থ রাখতে তারা ব্যবহার করতেন নানা প্রাকৃতিক উপাদান। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন মধু ফেসমাস্কে ব্যবহার হতো। দুধ দিয়ে স্নান করার প্রথাও ছিল, যা ক্লিওপেট্রার সঙ্গে জড়িত নানা গল্পে উঠে এসেছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.